ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

নাঙ্গলকোটে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে গৃহবধূকে মারধর ও রাস্তা কাটার অভিযোগ

রায়হান মজুমদার, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) | আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম নাঙ্গলকোটে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে গৃহবধূকে মারধর ও রাস্তা কাটার অভিযোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে মারধর, তার স্বজনের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া এবং সরকারি ভাবে সংস্কার করা (এডিপির) দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা আনিছুর রহমান ও তার ভাই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরজিনা আক্তার নাঙ্গলকোট থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। আরজিনা আক্তার উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের বড় ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

অভিযুক্ত আনিছুর রহমান একই ইউনিয়নের নারুয়া গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে এবং মৌকরা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগে তিলিপের পশ্চিম সীমান্ত থেকে বড় ফতেপুরের কর্ণনারায়ণ দিঘীর পূর্ব পাড় পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি এডিপির বরাদ্দ থেকে দুই লাখ টাকা অনুমোদনের কথা বলে আনিছুর রহমান আরজিনা আক্তার ও তাদের বাড়ির লোকদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তারা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আনিসকে ২০ হাজার টাকা দেন। রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর গত ২১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনিছুর রহমান ও তার ভাই মিজানুর রহমান ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই ভাই তার ওপর চড়াও হন এবং চুলের মুঠি ধরে কোমর, পেট ও পিঠে কিল-ঘুষি মারেন। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্বজন রাশেদা আক্তার এগিয়ে এসে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন এবং তাকেও মারধর করেন। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে ডেকে এনে সরকারি ভাবে এডিপির টাকায় নির্মিত রাস্তাটি কেটে ফেলা হয়। স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা কাটতে বাধা দিলেও তাদের বাধা উপেক্ষা করে রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এ ঘটনায় একই বাড়ির মোশারফ হোসেনের ওপরও আনিছুর রহমান ও মিজানুর রহমান হামলা করেছেন বলে জানা যায়। 
 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারী মোশারফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আবুল হোসেন ও হাসিনা বেগম বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো এ রাস্তা দিয়ে ময়ূরা উচ্চ বিদ্যালয়, তিলিপ আলিম মাদ্রাসা, উম্মে হাবিবা মহিলা মাদ্রাসা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। এছাড়া গোমকোট, আবারপাড়, মাঝিপাড়া, ময়ূরা পশ্চিম পাড়া ও তিলিপ পশ্চিম পাড়ার দুই শতাধিক পরিবারের মানুষ নিয়মিত এ রাস্তা ব্যবহার করেন। সরকারি বরাদ্দে রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও আনিছুর রহমান ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তারা ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তার কাজে প্রয়োজনীয় মাটিও নিজেদের উদ্যোগে সরবরাহ করেন। 

এরপরও আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা ও রাস্তা কেটে ফেলেন আনিস। পুনরায় রাস্তাটি সংস্কার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।অভিযুক্ত যুবদল নেতা আনিছুর রহমানের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।  নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু রায়হান বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

নাঙ্গলকোট কুমিল্লা প্রতিনিধি 

Link copied!