পার্বত্য জেলার বান্দরবানের থানচিতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্লাস্টিকজাতীয় পণ্যের ব্যবহার বর্জন করে বাঁশ, বেত ও অন্যান্য দেশীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি কুটির শিল্পের পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে দেশীয় কুটির শিল্প রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় থানচি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ও কোর্স উপদেষ্টা মিল্টন মুহুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিল্টন মুহুরী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে তৈরি কুটির শিল্পের পণ্য শুধু তাদের জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং এটি দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্লাস্টিকজাতীয় পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে বাঁশ, বেত ও অন্যান্য দেশীয় উপকরণে তৈরি পণ্য ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশীয় কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এতে একদিকে যেমন দেশের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানচি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সত্যজিৎ মজুমদার, থানচি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম এবং উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারভাইজার মো. আমীর হোসেন।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।তিনি বলেন, নিজেদের হাতে তৈরি দেশীয় পণ্য ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা গেলে একদিকে যেমন দেশীয় কুটির শিল্প রক্ষা পাবে, অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।অনুষ্ঠানের শেষে ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে প্রশিক্ষণ সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়ের জন্য তাদের মাঝে নগদ অর্থও প্রদান করা হয়েছে।
কালের সমাজ/কে.পি

