কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির প্রবীণ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুস সালামের হৃদযন্ত্রে রিং বসানো হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে তাঁর হৃদযন্ত্রে রিং স্থাপনের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভোগা প্রবীণ বিএনপি নেতা আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর হৃদযন্ত্রে রিং বসানো হয়। আলহাজ্ব আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই প্রবীণ নেতা দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি একাধিক মামলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি কারাভোগও করেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন ত্যাগী, নির্লোভ ও আপসহীন নেতা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় আদর্শ ও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় রয়েছেন।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি দেশবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন। এদিকে তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঈদগাঁও ও কক্সবাজারের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করছেন।
ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর সফল চিকিৎসা ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া চাওয়া হয়েছে। এদিকে অসুস্থ আব্দুস সালামের খোঁজ নিয়েছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল। আব্দুস সালামের সঙ্গে থাকা তাঁর সন্তান জানান, অসুস্থতার খবর পেয়ে লুৎফুর রহমান কাজল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি আব্দুস সালামকে দেখতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করার পাশাপাশি চিকিৎসার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলের একজন অসুস্থ ও ত্যাগী নেতার খোঁজ নেওয়া এবং তার চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক রাজনৈতিক নেতার পরিচয় বহন করে। এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যেও সন্তোষ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। প্রবীণ এই বিএনপি নেতার কঠিন সময়ে এখন তাঁর পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—সবার দোয়া ও ভালোবাসায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
কালের সমাজ/কে.পি

