ঢাকা রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
নিখোঁজ ৫৫ হাজার

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ১৪০০ ছাড়ালো

কালের সমাজ ডেস্ক | জুন ২৮, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ১৪০০ ছাড়ালো

ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৬০০ জনেরও বেশি বিদেশি উদ্ধারকারী দল ভেনিজুয়েলায় এসে পৌঁছেছে এবং আরও দল আসার পথে রয়েছে। খবর রয়টার্সের।

গত বুধবার (২৪ জুন) সাত দশমিক দুই ও সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং এর পরবর্তী আফটারশকের কারণে দেশটির উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাকাসের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা অনুমান করছে, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তেমনটি হলে এটি হবে গত শতাব্দীতে লাতিন আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম মারাত্মক ভূমিকম্প।

লা গুয়াইরার অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা কারাবালেদায় মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারে করে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারীদের নামানো হচ্ছে। সেখানে আর্জেন্টিনা ও এল সালভাদরের উদ্ধারকারী দলগুলো স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। তবে উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ভারী যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা এবং সরকারি তৎপরতার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

জরুরি ও উদ্ধারকারী যান চলাচলের সুবিধার্থে কর্তৃপক্ষ লা গুয়াইরা অঞ্চলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করেছে। কারাকাস থেকে আসার প্রধান সড়কে চেকপয়েন্ট বসিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে, বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগের অভাব ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ভেনিজুয়েলার বিদ্যুৎ গ্রিড এই দুর্যোগে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও অধিকাংশ অঞ্চল এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছে। আফটারশকের আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে টানা কয়েকদিন ধরে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন।

সরকারিভাবে শত শত মানুষ নিখোঁজ বা আটকে থাকার কথা বলা হলেও, দেশের বিরোধী দলের পরিচালিত একটি ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। স্বজনদের খোঁজে মানুষ এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে এবং ধ্বংসস্তূপের সামনে ভিড় করছেন।

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভেনিজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের জন্য বড়ো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর, মাদুরোর সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ নিজেকে পরিবর্তনের দূত হিসেবে উপস্থাপন করে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন।

দুর্যোগের এই সময়ে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বঘোষিত ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার পাশাপাশি আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে আরও কয়েক কোটি ডলারের একটি নতুন তহবিল প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে। রোমে এক ভাষণে পোপ লিও ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং বিশ্ববাসীকে সংহতি বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন।

তবে এই দুর্যোগের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে দেশ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো এখন দেশে ফেরার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চাইছেন। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সঙ্কটের মুহূর্তে মাচাদোর দেশে ফেরার এমন আবেদন ওয়াশিংটনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হতাশ করেছে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!