ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

নি‌ষিদ্ধ আওয়ামীলী‌গ নেতার ছেলে নাগেশ্বরীর ইউএনও

জেলা প্রতিনিধি,কুড়িগ্রাম | জুন ২৩, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম নি‌ষিদ্ধ আওয়ামীলী‌গ নেতার ছেলে নাগেশ্বরীর ইউএনও

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পদায়নে আওয়ামী লীগপন্থী বাদ দেওয়ার কথা থাকলেও, তা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগ রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা ও বাবা আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তাকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইউএনও হিসেবে পদায়ন দেওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

‎বর্তমানে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এইচএম খোদাদাদ হোসেন, ৩৫ তম বিসিএস ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যার চাকরি। পিতাঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আজম সরকার ২০২১ সাথে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে ৮২০ ভোট পেয়ে পঞ্চম অবস্থানে পরাজিত হয়েছেন রফিকুল আজম সরকার।

‎আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এইচএম খোদাদাদ হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩৫ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পেলেও সিরিয়াল ছিলো শেষের দিকে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের ‎সময়কালে  ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ‎মুক্তিযোদ্ধা কোটা আর ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে বাগিয়ে নেন ৩৫ তম বিসিএস ক্যাডারের চাকরি।

‎২০১৭ সালে মে মাসে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শুরু হয় তার কর্মজীবন। তার পরে কর্মরত ছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরে  সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি প্রায়ই গ্রাহক হয়রানী করতেন। তারপর সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদায়ন পান কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন শাখায়।

‎পদায়নের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম করে অবৈধভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন উন্নয়নের ফান্ড থেকে ‎কোটি কোটি টাকা তসরুপ করেন। অবৈধভাবে সরকারী টাকা নষ্ট করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এইচএম খোদাদাদ হোসেনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ন্যস্ত  করা হয়।

‎সরকার পতনের সাথে সাথে এই কর্মকর্তা লেবাস পরিবর্তন করে অতিতের তথ্য গোপন রেখে নতুন রূপ ধারণ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পদায়ন নেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে। পদায়নের কয়েকমাস যেতে না যেতে উপজেলার সকল কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির সাথে ‎অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় রাজশাহী বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন উপজেলার সকল কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি। তারপর এইচএম খোদাদাদ হোসেনকে রাজশাহী বিভাগ থেকে বদলী করে রংপুর বিভাগে পদায়ন করা হলেও বর্তমানে বহাল তদবিরে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী  উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

‎এই প্রতিবেদক এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‎গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, এইচ এম খোদাদাদ হোসেন  এলাকায় সজিব নামে পরিচিত। সে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছেন। যার বাবা নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন,  তার ছেলে বর্তমানে কিভাবে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান। উচ্চ মহলের উচিত ছিলো  উএনও হিসেবে পদায়ন করার আগে তার পরিবারের অতীত সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়ার।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে এইচএম খোদাদাদ হোসেনকে একাধিক বার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনিও ফোন রিসিভ করে নাই।

‎বর্তমান সময়ে উপজেলায় চলছে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা সমালোচনা। একজন আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনীত নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছেলে কিভাবে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন। সর্বসাধারণের দাবি ‎জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে   অরাজনৈতিক কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হোক। 

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!