ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

কুমিল্লায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের কাজে অনিয়ম: দেখার কেউ নেই!

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা | জুন ২৩, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম কুমিল্লায় গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের কাজে অনিয়ম: দেখার কেউ নেই!

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয়ের একটি গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ও মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের এক নেতা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর অধীনে নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের পাইকোট হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে ব্যাপারীবাড়ি পাকা সড়ক পর্যন্ত ৫০০ মিটার মাটির রাস্তার উন্নয়নের জন্য ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কার্যাদেশ অনুযায়ী, কাজটির মূল ঠিকাদার দেবিদ্বার উপজেলার মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক আতিকুর রহমান। তবে তিনি নিজে কাজটি না করে নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের নেতা আব্দুল মমিনের কাছে তা বিক্রি করে দেন। বর্তমানে যুবদল নেতাই মাঠপর্যায়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিয়ম অনুযায়ী এক নম্বর ইট (নাম্বারি ইট) দিয়ে রাস্তা তৈরির কথা থাকলেও সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্যাসের পোড়াসহ দেড় নম্বর ও দুই নম্বর গ্রেডের নিম্নমানের ইট। রাস্তার ভিত্তি বা বেড প্রস্তুতির জন্য যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতেও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মাটির মিশ্রণ। অনেক ইটে কোনো গ্রেড বা মান নির্দেশক চিহ্নই নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের এত টাকা ব্যয়ের একটি গ্রামীণ সড়ক যদি শুরুতেই এভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে করা হয়, তবে তা প্রথম বর্ষাতেই ভেঙে যাবে। তারা বারবার কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানালেও কোনো লাভ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আব্দুল মমিন অনিয়মের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, বাজারে বর্তমানে ইটের কিছুটা সংকট রয়েছে। এই কারণে কয়েক গাড়ি গ্যাসের (নিম্নমানের) ইট লাগানো হয়েছে, এর চেয়ে বেশি কিছু না। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরে বিস্তারিত কথা বলব।

নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমান বলেন, সড়কটির কাজ শুরু হওয়ার পর আমি কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। যেখানে যেখানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলার ও পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী বলেন, প্রথমত কাজের সিডিউল অনুযায়ী এক নম্বর (নাম্বারি) ইট ছাড়া অন্য কোনো ইট ব্যবহার করার সুযোগ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা ও নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!