দেশের রফতানি আয় দেড়শ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে এর জন্য তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি আরও ৫ থেকে ৬টি খাতে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে চামড়া ও পাটখাতের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিড রফতানি বহুমুখীকরণে সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের কথা থাকলেও জাতিসংঘে করা আবেদনের ভিত্তিতে আরও তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে এর সুফল মিলবে না বলে মনে করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
র্যাপিডের গবেষণায় বলা হয়েছে, বাজার হিস্যা বেশি থাকায় এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেলেও বাংলাদেশ শুল্ক সুবিধা নাও পেতে পারে। এছাড়া অন্যান্য বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে ভারত, ইউরোপ ও চীনের বাজারে রফতানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
বর্তমানে কৃষি ও উৎপাদন খাত মিলিয়ে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি করে এমন পণ্যের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৪। খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বিষয়ক এক সভায় র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ জানান, এসব খাতের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি রফতানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থা নিয়েও ভাবতে হবে।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তৈরি পোশাক খাতের বাইরে আরও ৫ থেকে ৬টি খাতে নীতিসহায়তা দেয়া গেলে দেশের রফতানি আয় দেড়শ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। চামড়া ও পাটখাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়া হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে পাটশিল্প উন্নয়নে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
চলতি বছরের নভেম্বরে না হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণ ঘটবেই। এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
কালের সমাজ/এএইচবি

