ঢাকা শনিবার, ০১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
দ্য টেলিগ্রাফ

ইরান যুদ্ধে প্রকৃত ব্যয় পেন্টাগনের হিসাবের চার গুণ

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম ইরান যুদ্ধে প্রকৃত ব্যয় পেন্টাগনের হিসাবের চার গুণ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রকৃত ব্যয় পেন্টাগনের ঘোষিত হিসাবের প্রায় চার গুণ বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, পেন্টাগন যেখানে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছে, সেখানে প্রকৃত ব্যয় ১৫১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।

২৮ জুলাই প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যয়ের হিসাবে এখনও এ সামরিক আগ্রাসনের ব্যয়ের বড় একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও যুদ্ধ অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ লিন্ডা জে. বিলমেস পেন্টাগনের হিসাবকে "হিমশৈলের চূড়া" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে শুধু তাৎক্ষণিক সামরিক ব্যয় ধরা হয়েছে; মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রভাবের হিসাব নেই।

দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান আগ্রাসন একইভাবে চলতে থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের মোট যুদ্ধ ব্যয় ৩১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাবেও আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট বৃহত্তর অর্থনৈতিক ক্ষতি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য পরোক্ষ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়।

অধ্যাপক বিলমেসের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক আগ্রাসনের চূড়ান্ত ব্যয় এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এদিকে একই ধরনের মূল্যায়ন দিয়েছেন জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক স্টিভ হ্যাঙ্কে। তার ভাষায়, এই আগ্রাসনের আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদেরই বহন করতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রায় এক মাস আগে পেন্টাগন যুদ্ধ-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার বাজেট চেয়েছে। এই অর্থ গোলাবারুদ পুনঃসংগ্রহ, সামরিক সরঞ্জাম মেরামত এবং পরিচালন ব্যয়ের জন্য প্রয়োজন হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনার পুনর্নির্মাণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়।

দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, পেন্টাগনের ঘোষিত ব্যয় এবং স্বাধীন গবেষণার হিসাবের মধ্যে বড় ব্যবধান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনের প্রকৃত আর্থিক বোঝা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে এবং এর প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও করদাতাদের ওপর পড়বে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!