ভারতের ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘র’ প্রধান চীন থেকে ঢাকা এসেছেন। এটা তার এক ধরনের সফর। এটি নিয়ে জল্পনার কিছু নেই। হয়তো তার সফর শেষে সরকার কোনো বিবৃতি দিলেও দিতে পারে।
এসএসসি ও সমানের পরীক্ষায় পাসের হার কমার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-ফাইভ এবং পাসের হার কমেছে। যেনতেনভাবে নাম্বার দেয়া ও পাস করানোর প্রবণতা ছিল একটা সময়ে। এ সরকার শিক্ষার মানের দিকে খেয়াল রাখবে, সেটি প্রথমেই জানান দেয়া হয়েছিল।
জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, দেশে নিরবচ্ছিন্ন এবং নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬-এর খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা। এ ছাড়াও একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে এ নীতিমালার লক্ষ্য। এ নীতিমালার মাধ্যমে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যদিও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ১৮০ দিনের পর মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হবে সরকারের দিক থেকে এমন ইঙ্গিত করেনি। যেকোনো সময়েই মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়েছে এ ব্যাপারে আমরা টাফ আছি। দুদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে যে আলাপ করছি, সেটির অনূকূল পরিবেশ ভারতের দিক থেকে তৈরি করতে হবে। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করার কথা ছিল। আমরা একজন মৃত্যুদণ্ড আসামিকে ফেরত চাই, দেশে আইনের আওয়তায় আনতে চাই। সেটা তো হচ্ছেই না, এবার রীতিমত সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ ব্যাপারগুলোকে ভারতকে আন্তরিকভাবে নিতে হবে। এ বার্তা শক্তভাবে দেয়া হয়েছে এটাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাওয়াত করা হয়েছে। এ ছাড়াও একটি দাওয়াত আছে। সরকার গঠনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সফরের আমন্ত্রণ ছিল। সফর যেকোনো সময় হতে পারে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে তিনি বলেন, সাকিব আল হাসান ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, যে শেখ হাসিনার সাথে এলাইনড হয় এবং এখনও আছে সে নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ। তিনি এসব ফালতু কথা বলেন সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার জন্য। শুধু সাকিব আল হাসান নয় শেখ হাসিনাও বাংলাদেশে আসলে পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে আসবেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন, পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন বিচারিক প্রক্রিয়ায়। এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা সবাই মেনে নেবো। এটি ফ্যাসিস্ট আমল নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। নিশ্চিতভাবে সবচেয়ে বীভৎস অপরাধীও সেটি সাকিব আল হাসান কিংবা হাসিনা যেই হোক যা যা নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার সেগুলো পাবেন।
কালের সমাজ/এসআর

