ঢাকা রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইতি রঘু ডাকাত কোট নং ০৬’ শাহজাদপুরে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়ে ডাকাতের খোলা চিঠি

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ | মে ১৬, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম ইতি রঘু ডাকাত কোট নং ০৬’  শাহজাদপুরে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়ে ডাকাতের খোলা  চিঠি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে দূর্বৃত্তরা হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়ে ঘরের দরজা খোলা রাখতে চিঠি পাঠিয়েছে। এর মধ্যে আবু সাঈদের বাড়ি থেকে দূর্বৃত্তরা গরু লুট করে নিয়ে যেতে ব্যার্থ হয়ে তার মেয়ে প্রাইভেট শিক্ষক বিথি খাতুনকে রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

এ ছাড়া চেতনানাশক স্প্রের মাধ্যমে বাড়ির সবাইকে ঘুমে অচেতন করে দূর্বৃত্তরা টেকুয়াপাড়া গ্রামের আবু হোসেনের বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা দামের একটি ষাঁড় গরু ও আলহাজ্ব মোঃ আমজাদ হোসেনের বাড়ির শোকেজের লকার ভেঙ্গে নগদ ১ লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণের গহনা ও ৫ ভরি রূপার গহনাসহ দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এতে তার ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৫ মে) রাতে আলহাজ্ব . আমজাদ হোসেন বাদি হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।  

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে গ্রামবাসির প্রতিটি রাত কাটছে চুরি-ডাকাতির চরম আতংকে। চিঠি দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ায় কমলমতি শিশুদেরও একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে অভিভাবকরা। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের রাস্তাঘাট ও বাজার জনশুন্য হয়ে পড়ে। গ্রামের যুবকরা রাত জেগে পাহারা দিয়েও চিঠি দিয়ে হুমকি ও চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে পারছে না। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে আলহাজ্ব মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গত ১২ মে মঙ্গলবার মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে বাড়ি ফিরে দেখেন তার স্ত্রী সারা খাতুন গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন। ঘরে ঢোকার সাথে সাথে তার নাকে এক ধরণের স্প্রের গন্ধ লাগে। এর পরপর তিনিও গভীর ঘুমে স্ত্রীর পাশেই ঢলে পড়েন। গভীর রাতে জেগে উঠে দেখেন তার ঘরের শোকেজের লকার ভেঙ্গে দূর্বৃত্তরা নগদ ১ লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণের গহনা ও ৫ ভরি রূপার গহনাসহ দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এতে তার ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে টেকুয়াপাড়া গ্রামের  আবু হোসেন জানান, প্রায় ১৫দিন আগে জানালা দিয়ে ঘরে চেতনানাশক স্প্রে করে দূর্বৃত্তরা তার ঘর থেকে ২ লাখ টাকা দামের একটি ষাঁড়গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। এতে তার ২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম, সানোয়ার হোসেন জানান, গত ৪/৫দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দূর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে
আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসবো, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস.........? ইতি রঘু  ডাকাত।’

তারা আরও বলেন, একের পর এক এভাবে চিঠি দেওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে গ্রামবাসি গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে এ গ্রামের ক্লাবঘরে এক জরুরী বৈঠক চলা অবস্থায় দূর্বৃত্তরা আবু সাঈদের বাড়ি থেকে ২টি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আবু সাঈদের মেয়ে প্রাইভেট শিক্ষক বিথি খাতুন টের পেয়ে ডাক, চিৎকার শুরু করে। এসময় বৈঠকের লোকজন দৌড়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে দূর্বৃত্তরা গরু ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ওই রাতেই বিথি খাতুনকে উদ্দেশ্য করে ঘরের মধ্যে একটি রক্তমাখা চিঠি ফেলে রেখে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে চিঠিটি হাতে পেয়ে বাড়ির লোকজন আতংকিত হয়ে পড়েন।

চিঠিতে লেখা আছে, ‘আপনার মেয়ের জন্য আজকে বেঁচে গেলেন, ভাইবেন না আবার বাঁচবেন। এই বছরের প্রথম বারের মিছ হলো ঐ ম্যাডামের জন্য, দেখে লেবো, মেয়ে মানুষের এত সাহস ভালো না। কালকে রাতে বাচতে চাইলে দরজা খোলা রাখবেন। না রাখলে জিন্দা লাস বানিয়ে দিবো। ইতি রঘু ডাকাত। কোট নং ০৬’। এ ভাবে প্রতিটি চিঠিতে কোড নম্বর দেওয়া আছে।

এ বিষয়ে টেকুয়াপাড়া মিলন সংঘের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, দূর্বৃত্তরা গত ৪দিনে আলতাব হোসেন, ঈমান আলী, বাবর আলী মেম্বর, আব্দুল হামিদ, আব্দুল খালেক ফকির, বাবলু ফকির, শাহীন ফকির, ইসমাইল ফকির, জলিল মন্ডল, শাহ আলমসহ অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে এ ধরণের চিঠি পাঠিয়েছে। এ চিঠি পাওয়ার পর থেকে আমাদের ক্লাবের সদস্যরা রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে।

তার পরেও চুরি ও চিঠি পাঠানো ঠেকানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এক বা একাধিক কোরবানির ষাঁড় গরু লালন পালন করা হচ্ছে। এই সময় এ চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় সবাই আতংকের মধ্যে রয়েছে। চোর-ডাকাতের ভয়ে সন্ধ্যার পরে বাজার ও রাস্তাঘাট জনশুন্য হয়ে পড়ে। ফলে গ্রামজুড়ে এক ভয়ংকর আতংক রিরাজ করছে

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরদিকে চুরির ঘটনায় ওই গ্রামের আলহাজ্ব মোঃ আমজাদ হোসেন বাদি হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন বলেন, শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানার পর এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শাহজাদপুর থানার ওসিকে বলা হয়েছে।

 

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!