ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক আছমা খানম

শরিফুল রোমান, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি | মে ২৪, ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক আছমা খানম

শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়।সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে একজন প্রধান শিক্ষক কীভাবে একটি বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ বদলে দিতে পারেন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১নং টেংরাখোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আছমা খানম।

২০২৬ সালের মূল্যায়নে শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, দক্ষ নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন। এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও সমগ্র এলাকার জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

আছমা খানম এর আগেও পাঁচবার উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ অর্জন করেছেন। ধারাবাহিক এই সাফল্য তাঁর কর্মনিষ্ঠা, শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে শুধু নিয়মিত পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এর মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে বিদ্যালয়ে আয়োজিত "ইনোভেশন মেলা"। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন চিন্তা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উক্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
এই গৌরবময় অর্জনে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক আছমা খানম বলেন, গোপালগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম মহোদয়ের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এই অর্জন শুধু আমার একার নয়; এটি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার ফল। আগামী দিনে প্রাথমিক শিক্ষার আরও উন্নয়ন এবং পরবর্তী জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমে সফলভাবে এগিয়ে যেতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মতে, আছমা খানমের নিষ্ঠা, সততা ও কর্মদক্ষতা বিদ্যালয়টিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের প্রত্যাশা, তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে আরও সাফল্য ও স্বীকৃতি অর্জন করবে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!