ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তুমুল বৃষ্টির মধ্যেও শোলাকিয়ায় ঈদ বৃহৎ জামাত

জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ | মে ২৮, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম তুমুল বৃষ্টির মধ্যেও শোলাকিয়ায় ঈদ বৃহৎ জামাত

মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদুল আজহার জামাত। ভেজা ও কাদাময় মাঠেই হাজারো মুসল্লির অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয় ১৯৯তম ঈদ জামাত।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টায় জামাত শুরু হয়। জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

সকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও জামাত শুরুর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। তবে বৃষ্টির মধ্যেই মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জামাত শেষ হয়।

শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের গুলির মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হয়। নিয়ম অনুসারে পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, দুই মিনিট আগে দুটি এবং এক মিনিট আগে একটি গুলি ছোড়া হয়।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারও নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন ছিল বিজিবির দুই প্লাটুন, পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করেন।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পুরো এলাকা তল্লাশি চালায়। এছাড়া মাঠজুড়ে স্থাপন করা হয় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়। বৃষ্টির মধ্যেই দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ শোলাকিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে আসা মো. আলাউদ্দিন জানান, তিনি টানা ১২ বছর ধরে শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করছেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও তিনি এবার অংশ নিয়েছেন। তার ভাষায়, “শোলাকিয়ার নামাজের অনুভূতি আলাদা।”

কুলিয়ারচর থেকে সাইকেলে আসা আলী আকবর বলেন, “বৃষ্টি হোক বা রোদ, এখানে নামাজ পড়লে অন্যরকম শান্তি পাওয়া যায়।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল এবং মুসল্লিদের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে জামাত শেষ হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বৃষ্টি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর এবং পুরো আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব পাশে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে এখানে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকেই স্থানটির নাম হয় ‘শোলাকিয়া’।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!