ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, কোটি মানুষের আবেগের নাম। সেই আবেগ যখন প্রিয় তারকা ফুটবলারের প্রতি ভালোবাসায় রূপ নেয়, তখন জন্ম নেয় ব্যতিক্রমী সব আয়োজন।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামে এমনই এক অনন্য উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থকেরা। তাদের প্রিয় তারকা লিওনেল মেসি-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে নির্মাণ করছেন ১৬ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল ভাস্কর্য।
গ্রামের প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সের মানুষ সেখানে ভিড় করছেন কাজের অগ্রগতি দেখতে। শিশু থেকে প্রবীণ- সবার মুখে এখন একটাই আলোচনা, "মেসির ভাস্কর্য"।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, ভাস্কর্য নির্মাণে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হবে। স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আর্থিক সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে কাজ। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ অর্থ দিচ্ছেন, কেউ শ্রম দিয়ে অংশ নিচ্ছেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে।
স্থানীয় এক সমর্থক বলেন, "মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আমাদের আবেগ, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসার প্রতীক। তার অসাধারণ খেলোয়াড়ি জীবন আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাই তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই আমরা এই ভাস্কর্য নির্মাণ করছি।
তবে আয়োজন শুধু ভাস্কর্য নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিশ্বকাপকে ঘিরে এলাকায় ফুটবল উৎসবেরও প্রস্তুতি চলছে। বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টের আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ফুটবলপ্রেমীরা উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্য যে দলের সমর্থকই হোক না কেন, সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখছেন এই নির্মাণকাজ। ফলে বহুগ্রাম এখন ধীরে ধীরে ফুটবলপ্রেমীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে।
গ্রামের প্রবীণদের ভাষায়, আগে বিশ্বকাপ এলেই শুধু পতাকা টানানো বা খেলা দেখার আয়োজন হতো। এবার সেই উৎসব নতুন মাত্রা পেয়েছে মেসির বিশাল ভাস্কর্য নির্মাণের মাধ্যমে। এটি শুধু একজন খেলোয়াড়ের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ নয়, বরং ফুটবলকে ঘিরে মানুষের ঐক্য, আবেগ ও উচ্ছ্বাসেরও প্রতীক।
বিশ্বকাপের অপেক্ষায় থাকা মুকসুদপুরের বহুগ্রামের মানুষ এখন দিন গুনছেন। ভাস্কর্যের কাজ শেষ হলে সেটি শুধু আর্জেন্টিনা সমর্থকদের গর্বই নয়, মুকসুদপুরের ফুটবলপ্রেমী মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার এক স্মারক হিসেবেও পরিচিতি পাবে বলে মনে করছেন।
কালের সমাজ/কে.পি

