ঢাকা রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় দেয়া সেই নয়ন গ্রেপ্তার, আগেও ছিল একাধিক মামলা

জেলা প্রতিনিধি, মাগুরা | আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় দেয়া সেই নয়ন গ্রেপ্তার, আগেও ছিল একাধিক মামলা

মাগুরায় পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় মারার অভিযোগে নাঈমুজ্জামান নয়ন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মাগুরা ভায়না মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি বলে জানা গেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে মাগুরা শহরের ভায়না এলাকায় পুলিশ সদস্য মো. ইমরান হোসেনকে থাপ্পড় দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নয়নের বিরুদ্ধে অতীতে মাদক, অস্ত্র ও মাইক্রোবাস ছিনতাইসহ একাধিক মামলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গ্রেপ্তার নয়নের বড় ভাই ও যুবদল নেতা আব্বাস উদ্দিন নতুন দাবি করেন, পুলিশের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির পর শুক্রবার রাতে বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছিল। তবে শনিবার দুপুরে পুলিশ নয়নকে থানায় ডেকে নিয়ে দিনভর বসিয়ে রাখার পর সন্ধ্যায় তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নয়ন হৃদরোগে আক্রান্ত উল্লেখ করে তিনি মানবিক কারণে তার মুক্তির দাবি জানান।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নয়নকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্য মো. ইমরান হোসেনকে থাপ্পড় মারার অভিযোগে নাঈমুজ্জামান নয়নসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল ইমরান মোটরসাইকেল নিয়ে ভায়নার মোড় হয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের সামনে নাঈমুজ্জামান নয়ন বাইকের সামনে পড়লে ইমরান হর্ন দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নয়ন ও তার সহযোগীরা বাইকের গতিরোধ করে বাগবিতণ্ডায় জড়ান এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও থাপ্পড় মারেন। এ সময় পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

ভিডিওতে নয়নকে পুলিশ সদস্যের বাইকের চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি মারধর করতে দেখা যায়।

পরে রাত ৮টার দিকে সদর থানায় পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত হয়ে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেন এবং নয়ন ওই পুলিশ সদস্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন।

কালের সমাজ/এসআর

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!