ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক শিক্ষার্থীকে (১১) শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষককে এলাকাবাসী অবরুদ্ধ করে রাখলে নবীনগর থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
আজ (৯/৯/২৬) দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মাওলানা মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব। দুপুরে নবীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব নাথ জানান- “এলাকাবাসী ঐ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন-পরিবারের কেউ লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের অভিযোগ- ওই শিশু চারদিন যাবত মাদ্রাসায় অনুপস্থিত ছিল।
আজ সকালে শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব তাকে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন। তাকে মাদরাসায় না আসার কারনে মারধর করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা শিশুটিকে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে এবং ঐ শিক্ষককে মাদ্রাসায় অবরুদ্ধ করে রাখে। দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে শিক্ষক ইব্রাহিম বিন মুজিবকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম বিন মুজিব। তিনি বলেন- “আসলেই ছাত্রের ওপর মাইরটা মারাত্মক বেশি হয়ে গেছে।
মারার সময় আমার রাগটা ধইরা রাখতে পারিনি। এ জন্য আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী।” অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- অভিযুক্ত শিক্ষক এবং মারধরের শিকার শিক্ষার্থী আত্মীয়। এ কারণে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি পারিবারিক ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আশরাফী মুঠোফোনে বলেন- “বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। এমন ঘটনা এর আগে কখনো এই মাদ্রাসায় ঘটেনি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
কালের সমাজ/কে.পি

