মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম মধুমতি সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কে (জাঙ্গালিয়া অংশে) ভয়াবহ ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন যেতে না যেতেই সড়কের দুই পাশের অন্তত চারটি স্থানে ধস নেমেছে। এরমধ্যে একটি স্থানের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এতে করে ব্যস্ততম এই সড়কে যানবাহন ও পথচারী চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
কাজ শেষ হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই এমন বেহাল দশা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মহম্মদপুরের এই মধুমতি সেতু ব্যবহার করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোর যাতায়াত কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রো বাস, প্রাইভেট কার, কৃষিভিত্তিক অঞ্চলের অসংখ্য সবজিবাহী ট্রাক-পিকআপ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জগামী শ’ শ’ যানবাহন চলাচল করে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কের দুই পাশের কয়েকটি স্থানে ভাঙন ও ধস নামায় যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে এটি মেরামত বা সংস্কার করা না হলে ঢাকার সঙ্গে মহম্মদপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে সম্প্রতি এই সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে গাইডওয়াল বা প্যালাসাইড না থাকায় সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে গিয়ে এখন বালু, খোয়া, পিস-পাথরের সড়ক ভেঙে এ করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে পিচের নিচ থেকেও মাটি সরে গিয়ে শূন্যে ঝুলে আছে সড়কের একাংশ। স্থানীয় বাসিন্দা খুরশিদ আলম সোহাগ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছুদিন দিন আগেই লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে মড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হলো। কিন্তু সঠিক তদারকি ও সুরক্ষা দেয়াল না থাকায় অল্প দিনের মধ্যেই একাধিক স্থানে ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে। এখন প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুকি যানবাহন ও মানুষ চলাচল করছে। চালক, যাত্রী সাধারণ ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় অবিলম্বে টেকসই সংস্কার জরুরি।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। অতি বৃষ্টির কারণে যে দিক দিয়ে সড়কের পানির স্রোত নেমেছে এরকম কয়েকটি স্থানে ধস নেমেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ ও টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে।”
কালের সমাজ/কে.পি

