ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি,সাতক্ষীরা | অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শনিবার রাতে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, শনিবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে এ মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) শামীম (৩৮) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। একই দিন স্থানীয় একটি বাজারে তাকে প্রথম দফায় মারধর করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন শামীম। তখন একদল লোক তাকে চেম্বার থেকে বের করে আবারও মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন রাতে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে একটি মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। সেখান থেকে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে আবারও মারধর করা হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, শামীম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়। তাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ দিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া এলাকায় ফজলুল হক আমিনী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় গণপিটুনি ও বিচারবহির্ভূত নির্যাতনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

এ ঘটনায় মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনও ব্যক্তি নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারেন না। ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে ভবিষ্যতে গণপিটুনি ও মব সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!