ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

নগরকান্দায় সরকারি খালের জায়গা দখল করে মুরগির খামার

মিজানুর রহমান, নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি | অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম নগরকান্দায় সরকারি খালের  জায়গা দখল করে মুরগির খামার

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় সরকারি খালের জায়গা দখল করে মুরগির খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা মুন্নু মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া ত্রিমোহনা এলাকায় সড়কের পাশে খালের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করে প্রায় চার বছর ধরে তিনি এ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে। খামারের মুরগির বিষ্ঠা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে সরকারি খালের জায়গায় ঘর নির্মাণ করে মুরগির খামার স্থাপন করা হয়েছে। খামারটির দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় আনোয়ার শেখের ছেলে জাকির হোসেন। খামারের মুরগির বিষ্ঠা সড়কের পাশে ও খালের পানিতে পড়ে জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী এবং আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। 

তাঁরা সরকারি খালের জায়গা দখলমুক্ত করা এবং পরিবেশ দূষণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, “সরকারি জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা নিষেধ। খাল দখল করে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।” অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মুন্নু মাতুব্বর বলেন, “আমি চার বছর ধরে মুরগির খামার করে ব্যবসা করছি। জাকির এটি দেখাশোনা করে।” খামারটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা জাকির হোসেন দাবি করেন, প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই অনুমতির কাগজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। 

এ সময় অনুমতির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। এদিকে, খালের সরকারি জায়গা (তালমার গাং) দখল এবং মুরগির বিষ্ঠা থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধের বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নগরকান্দা উপজেলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. মমেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি খালের জায়গার মালিকানা, স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি এবং পরিবেশদূষণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!