মাগুরা সদরসহ জেলার চার উপজেলাজুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের দৌরাত্ম্য ও উপদ্রবজনিত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক দিন দিন বেড়েইে চলেছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, বসতবাড়ি, গলি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় দলবেঁধে কুকুরের বিচরণ চোখে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পথচলতি স্কুলগামী শিশুরা চরম ভীতির মধ্যে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। কুকুরের অবাধ বংশবৃদ্ধি ও অলিগলিতে অবস্থা নেয়া এবং চলাচল করায় জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। যত্রতত্র জৈবিক (প্রজনন) ক্রিয়ায় লিপ্ত হওয়ায় বিব্রত হচ্ছেন মানুষ। বিশেষ করে লজ্জায় ছাত্রী ও নারীদের মুখ লুকিয়ে চলতে পথ চলতে হয়। মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শালিখা এবং শ্রীপুর উপজেলার সর্বত্রই একই চিত্র।
সম্প্রতি জেলার শ্রীপুর উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে আমিরুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা ও টিকা নেয়া সত্ত্বেও গত রোববার (১১ অক্টোবর) মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি উপজেলার পূর্ব শ্রীকোল গ্রামের মৃত: আলতাফ শেখের ছেলে। একই দিনে ওই ক্ষিপ্ত কুকুরটির কামড়ে মান্নান কাজী (৮০), সিনথিয়া (৭), জোবায়ের (৯), হযরত (২২) এবং খয়রা বেগম (৬০) নামের আরও পাঁচজন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিককিৎসাসহ জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করেন। এ ঘটনার পর শিশু, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর মতে, কেবল সতর্ক থাকাই যথেষ্ট নয়; কুকুরের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ (বন্ধ্যাত্বকরণ), পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগই পারে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিহির কান্তি বিশ্বাস বলেন, “উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় বেওয়ারিশ কুকুর নিধন আইনত নিষিদ্ধ। তবে আমাদের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়। বর্তমানে ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। নতুন সরবরাহ পাওয়া মাত্রই টিকাদান অভিযান জোরদার করা হবে।”
অন্যদিকে, পথচলতি মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকির বলেন, “কুকুর কামড়ে দিলে কালক্ষেপণ না করে ক্ষতস্থানটি অন্তত ৩০ মিনিট ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর অতি দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।”
কালের সমাজ/কে.পি

