গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত, কথিত অবৈধ টেন্ডার-বাণিজ্য বন্ধ এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করার দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় গাজীপুর মিডিয়া সেন্টারের সামনে গাজীপুর নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সুদীপ বসাকের (রাজু) অপসারণ ও বিচারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানারে ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন ও লুটপাটের নিরাপদ আস্তানা বানানো চলবে না’ স্লোগান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও টেন্ডার-বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দমন-পীড়নে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে সমালোচিত আওয়ামী লীগ নেত্রী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ফেরদৌস বেগম মুন্নি এবং বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের চট্টগ্রাম শাখার অর্থ সম্পাদক শুভাশীষ দাশ শুভকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গাজীপুরে আশ্রয় দেওয়া হয়।

আয়োজকদের অভিযোগ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার ও কোটেশনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছেন।
এ ছাড়া সুদীপ বসাকের নিয়োগ ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা তাঁর অপসারণ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার ও কোটেশনের নথি, কার্যাদেশ, অর্থ পরিশোধের তথ্য এবং দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক সমাজের কেন্দ্রীয় মহাসচিব সুফি মো. আহসান হাবিব, গাজীপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি জুলীয়াস চৌধুরী এবং সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক নাশিদ আহমেদ তুষার, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ আনাস, দুলাল মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিতর্কিত নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তাঁরা।
মানববন্ধন থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন টেন্ডার ও কোটেশন প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কার্যাদেশ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।

তাঁদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন এবং সরকারি ক্রয় ও উন্নয়নকাজের প্রতিটি পর্যায়ে আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা জরুরি।
মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুদীপ বসাক, গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এবং অভিযোগে নাম আসা অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমেই এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব।

