রংপুরে ‘রেকটিফায়েড স্পিরিট’ পানে অসুস্থ তিনদিনে মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন রেকটিফায়েড স্পিরিট বিক্রির অভিযোগে কারান্তরীণ ছিলেন।
এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেশ কয়েকজন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এর আগে দুপুরে মারা যান মানিক চন্দ্র রায় (৬০)।
তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এর আগে রোববার মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় এক মাদক কারবারির বাড়িতে কয়েক ব্যক্তি রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করেন। এতে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হন।
তাদের মধ্যে ওই দিনই তিনজন মারা যান। তারা হলেন-উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের প্রয়াত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং রংপুর সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জান্নাত আলি।
এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ওই এলাকার জয়নুল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাকে মাদক কারবারি বলছে পুলিশ। পরে বুধবার সকালে তারও মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, জয়নুল আবেদীন চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রি করতেন। রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পান করার পরে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে তারা মারা যান। ঘটনার পর রেক্টিফাইট স্পিরিট বিক্রির অভিযোগে জয়নুল আবেদীনকে আটক করে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ। জেলহাজতে থাকা অবস্থায় বুধবার সকালে মৃত্যু হয় জয়নুলের। এতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এ ঘটনায় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় নগরের হাজিরহাট থানার বালারবাজারে স্পিরিট খেয়ে মানিক চন্দ্র রায় (৬০) নামে আরও একজন প্রাণ হারিয়েছেন। হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মানিক। তার বাড়ি সদর কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ায়।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, এ ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলায় ছয়জন, আর বাকিরা অন্য উপজেলায় মারা গেছেন।
এসব ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার এবং সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন বলেন, স্থানীয় একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে রেক্টিফাইট স্পিরিট সংগ্রহ করে থাকেন মাদক ব্যবসায়ীরা। নগরের একটি হোমিও চেম্বারে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। দোষীদের সনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা করছে পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :