ঢাকা শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

একুশের প্রাক্কালে পিরোজপুরে পাঁচ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই স্থায়ী শহীদ মিনার

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর | ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম একুশের প্রাক্কালে পিরোজপুরে পাঁচ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই স্থায়ী শহীদ মিনার

রাত পোহালেই ২১ ফেব্রুয়ারি—আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যখন দেশজুড়ে চলছে প্রস্তুতি, তখন পিরোজপুর জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক বিদ্যালয়ে নেই কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার।

 

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরে রয়েছে ৯৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৭৪টি মাদরাসা ও ২৮টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠানে এখনো নির্মিত হয়নি স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিংবা নিজ উদ্যোগে কলাগাছ, কাপড় ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিবসটি পালন করে।
 

অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা মাটি দিয়ে বেদি তৈরি করে শ্রদ্ধা জানায়। শ্রদ্ধা নিবেদনের পরদিনই সেসব অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। শিক্ষাবিদদের মতে, এভাবে আনুষ্ঠানিকতা সারলেও কোমলমতি শিশুদের মনে ভাষা আন্দোলনের চেতনা স্থায়ীভাবে প্রোথিত হয় না। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে, সেগুলোর অনেকই পড়ে থাকে বছরের পর বছর অযত্ন-অবহেলায়।

 

পিরোজপুরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করি। আমাদের ইচ্ছে আছে স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণের। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে নিজ উদ্যোগে করতে পারিনি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় শহীদ মিনার হলে ভালো হতো।”

 

১৬নং মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলি রায় বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নেই। বাচ্চারা প্রতি বছর অনেক কষ্ট করে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানায়। স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলে তাদের এই কষ্ট করতে হতো না।

 

৮৮নং খামকাটা কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিতা দাস বলেন, প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা মাটি ও কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে ফুল দেয়। একটি স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলে ওরা আরও উৎসাহ নিয়ে দিবসটি পালন করতে পারত।”
 

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, “যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একুশের প্রাক্কালে প্রশ্ন উঠেছে—ভাষা শহীদদের রক্তে অর্জিত মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেই যদি স্থায়ী স্মারক না থাকে, তবে নতুন প্রজন্ম কীভাবে ধারণ করবে ভাষা আন্দোলনের চেতনা? এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি কতটা দ্রুত বাস্তবায়নের মুখ দেখে।
 

Side banner
Link copied!