ঢাকা শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

কালের সমাজ ডেস্ক | ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১১:০০ পিএম ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপকে অবৈধ বলেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের এক আদেশে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে একতরফাভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করার মাধ্যমে ট্রাম্প ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

এটি হোয়াইট হাউসের জন্য একটি বড় ধরনের পরাজয়, কারণ বিষয়টি প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রে ছিল। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি সম্ভবত রক্ষণশীল সুপ্রিম কোর্টের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হার। অথচ গত বছর এই একই আদালত অভিবাসন, স্বাধীন সংস্থার প্রধানদের বরখাস্ত করা এবং সরকারি ব্যয় হ্রাসের মতো ধারাবাহিক জরুরি আদেশগুলোতে বারবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ নিয়েছিল।

আদালতের বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত যার অনুপাত ৬-৩ লিখে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, এই শুল্ক আরোপ আইনের সীমা লঙ্ঘন করেছে। তবে ইতোমধ্যে সংগৃহীত ১৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি শুল্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী হবে, সে বিষয়ে আদালত কিছু বলেনি।

আদালতের পক্ষে রবার্টস লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে অসীম পরিমাণ, মেয়াদ এবং পরিধির শুল্ক আরোপের অসাধারণ ক্ষমতা দাবি করেন। এই দাবি করা ক্ষমতার ব্যাপ্তি, ইতিহাস এবং সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটের আলোকে তাকে অবশ্যই এটি প্রয়োগ করার জন্য কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে।

আদালত জানায়, ট্রাম্প যে জরুরি ক্ষমতার ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করেছিলেন তা ‘পর্যাপ্ত নয়।

বিচারপতিদের মধ্যে অ্যামি কোনি ব্যারেট, নিল গোরসাচ রবার্টস ও অপর তিনজন লিবারেল বিচারপতির সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট কাভানা ভিন্নমত পোষণ করেন।

তার মতামতে রবার্টস প্রশাসনের সেই যুক্তিটি নাকচ করে দেন যেখানে বলা হয়েছিল যে, বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য শুল্ক ব্যবহারের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের আছে। গত বছরের মৌখিক যুক্তিতর্কের সময় বিষয়টি সামনে এসেছিল যখন ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, শুল্ক জারির অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের আছে।

রবার্টস লিখেছেন, কংগ্রেস যখন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়, তখন তা স্পষ্টভাবে এবং সতর্ক সীমাবদ্ধতার সঙ্গেই করে। এ ক্ষেত্রে তারা এর কোনটিই করেনি।

রবার্টস আরও লিখেছেন, অর্থনীতি বা পররাষ্ট্র বিষয়ে আমরা কোনো বিশেষ পারদর্শিতা দাবি করি না। আমরা কেবল সংবিধানের ৩য় অনুচ্ছেদের মাধ্যমে আমাদের অর্পিত সীমিত ভূমিকা পালন করছি। সেই ভূমিকা পালন করতে গিয়েই আমরা সিদ্ধান্ত দিচ্ছি যে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।

কালের সমাজ/এসআর

Side banner
Link copied!