ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

সাড়ে তিন দশক পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে দেশ

কালের সমাজ ডেস্ক | ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম সাড়ে তিন দশক পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে দেশ


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯ আসনের মধ্যে জোটগতভাবে দলটি পেয়েছে ২১২টি আসন, যার মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে জয় এসেছে ২০৯ আসনে। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বিএনপি।


এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—আগামী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন? রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় নেতৃত্ব, নির্বাচনী ফল এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় অনেকেই মনে করছেন, সরকার গঠন হলে তারেক রহমানই হতে পারেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

তা হলে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ১৯৮৯ সালে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সরকার প্রধান ছিলেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সভাপতি শেখ হাসিনা। এর মধ্যে খালেদা জিয়া তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, আর সর্বশেষ ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনা।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সামনে এসেছে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা।

বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, নেতৃত্বের প্রশ্নে নারী-পুরুষ নয়, যোগ্যতা ও দক্ষতাই মুখ্য। বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার বলেন, নেতৃত্বের মানদণ্ড লিঙ্গ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শালীন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন—এটি মানুষ আজও স্মরণ করে।


রাজনৈতিক ইতিহাসেও মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই খালেদা জিয়া একাধিক আসনে জয়ী হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এবার প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারেক রহমানও একাধিক আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ফলে তার সামনে একই ধরনের রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় নারী নেতৃত্বের পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী আসা কি প্রজন্মান্তরের পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি কেবল নেতৃত্বের স্বাভাবিক রূপান্তর—সে প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল বলেন, আধুনিক রাজনীতিতে নেতৃত্বকে লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সুযোগ কম। বরং নেতৃত্বের দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতাই মুখ্য।


তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান ও নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে রাজনীতিও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে তা শুধু ব্যক্তিগত বা দলীয় সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


 

Side banner
Link copied!