ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

ভোটে কোন দলের কত প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ০২:১৪ এএম ভোটে কোন দলের কত প্রার্থী

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৫০টি দল, যাদের ১৭৫৫ জন প্রার্থী লড়ছেন ভোটের মাঠে। এর বাইরে ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে; সবমিলিয়ে ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে ২০২৮ জন। এবার সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী রয়েছে দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপির। আরেক বড় দল আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচন করার সুযোগ পায় নাই। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেছে। প্রার্থী সংখ্যার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, তাদের প্রার্থী রয়েছে ২৫৮ জন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রয়েছে ২২৪ জন। জাতীয় পার্টির ২০০ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন আর এনসিপির ৩২ জন ভোটের মাঠে রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ২৯৯ আসনে ভোট হবে। তবে শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে পরে ভোট হবে।

গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ৩৪১৭ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। এরপর বাছাই, আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে ভোটের প্রচার শেষ হয় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়। এবার পৌনে ১৩ কোটি ভোটার সংসদের পাশাপাশি গণভোটে রায় দেবেন। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলবে।

কোন দলের কতজন লড়ছেন: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)- ১৩ জন। জাতীয় পার্টি (জেপি)- ১০ জন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)- ৬৫ জন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-২৯১ জন। গণতন্ত্রী পার্টি-১ জন। জাতীয় পার্টি-২০০ জন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-২২৮ জন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-২৮ জন। জাকের পার্টি-৫ জন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)- ৩৫ জন। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-২ জন। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন-৮ জন। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- ১৬ জন। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি-২২ জন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ- ৪ জন। গণফোরাম-২০ জন। গণফ্রন্ট-৫ জন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ-১ জন। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-৬ জন। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-২০ জন। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি-২ জন। ইসলামী ঐক্যজোট-২ জন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-৩৪ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-২৫৮ জন। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট-২৫ জন। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা-১ জন। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি- ৭ জন। খেলাফত মজলিস- ২০ জন। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল- ৪ জন। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)- ২০ জন। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)-৮জন। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)- ৮ জন। বাংলাদেশ কংগ্রেস- ১৮ জন। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ- ৪২ জন। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ)- ১৫ জন। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)- ১৮ জন। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)- ৩০জন। গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)- ৯৪ জন। নাগরিক ঐক্য- ১১ জন। গণসংহতি আন্দোলন- ১৭ জন। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি- ২ জন। বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)- ৮ জন। বাংলাদেশ লেবার পার্টি- ১৭ জন। বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি)- ১৪ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)- ৩২ জন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)- ৩২ জন। জনতার দল- ২০ জন। আমজনতার দল- ১৫ জন। বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি)- ১ জন। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি- ৩ জন।

নিবন্ধিত দল হয়েও ভোটে অংশ নেয়নি যারা: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম এল)। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। বিকল্পধারা বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। তৃণমূল বিএনপি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম। ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই দলটির।

কোন নির্বাচনে কত প্রার্থী: সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ২৮টি দল অংশ নেয়। বিএনপিসহ ১৪টি দল ভোটের বাইরে ছিল। ২৯৯ আসনে প্রার্থী ছিল ১৯৬৯ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র ৪৩৭ জন এবং বাকি ১৫৩২ জন দলীয় প্রার্থী। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৪৯৮টি এবং দলীয় প্রার্থীদের ২ হাজার ৫৬৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ওই সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত দল অংশ নেয়। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৬১ জন। তাদের মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১৭৩৩ জন; বাকি ১২৮ জন স্বতন্ত্র। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে ১২টি দল অংশ নিয়েছিল। মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ১ হাজার ১০৭টি, বাছাইয়ের পর টিকে ছিলেন ৮৭৭ জন। ১৫৩টি আসনে একক প্রার্থী ছিল বলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। দল নিবন্ধনের পদ্ধতি চালুর পর ২০০৮ সালের নবম সংসদ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ২৮টি দল; প্রার্থী ছিলেন ১৫৬৭ জন। নিবন্ধন চালু হওয়ার আগে ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৫৫টি দল অংশ নেয়, প্রার্থী ছিলেন ১৯৩৯ জন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৮১টি দল অংশ নেয়, প্রার্থী ছিলেন ২৫৭২ জন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ১৪৫০ জন প্রার্থী ছিলেন, দল ছিল ৪২টি। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ২৭৮৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, দল ছিল ৭৫টি। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ৮টি দল অংশ নিয়েছিল, প্রার্থী ছিলেন ৯৭৭ জন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫২৭ জন প্রার্থী ছিলেন, দল ছিল ২৮টি। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯টি দল অংশ নেয়, প্রার্থী ছিলেন ২১২৫ জন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে ১৪টি দল অংশ নেয়, ১০৯১ জন প্রার্থী ছিলেন।


কালের সমাজ/এসআর

Side banner
Link copied!