ঢাকা শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

মণিরামপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভালোবাসায় এগিয়ে আছেন এ্যাড.গাজী এনামুল হক

জেলা প্রতিনিধি, যশোর | ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম মণিরামপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভালোবাসায় এগিয়ে আছেন এ্যাড.গাজী এনামুল হক

মণিরামপুরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর প্রচার মিছিল ও গণসংযোগ আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্ল প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী

অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তিনি শুক্রবার ( ৬ ফেব্রুয়ারি ) বিকালে মণিরামপুর উপজেলার ৫নং হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজির হাট বাজারে ও বিভিন্ন হাট-বাজার, গ্রাম ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন।

বাহাদুরপুর, ভুলবাড়িয়া, পাঁচকাটিয়া,নেবুগাতি, কুমারসীমা, পাঁচবাড়িয়া দি গঙ্গা, কুচলিয়া, কাটাখালি নলগোনা,হরিদাসকাটি,হোগলাডাঙ্গা, মধুপুর শ্রীপুর ও সমসকাটিসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ভোট প্রার্থনা করেন।

একই দিনে তিনি কুলটিয়া  ইউনিয়নের, নেহালপুর, কালীবাড়ী ও পাঁচাকড়ি এলাকায় এবং ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগ করেন।

গণসংযোগকালে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার, স্থানীয় দোকানপাট, বসতবাড়ি ও পথচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং হাতে থাকা লিফলেট বিতরণ করেন। এসময় স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি বলেন,ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তিনি জানান, তাদের আস্থা ও ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।গণসংযোগে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মণিরামপুর থানা জামায়াতের আমীর ফজলুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি খলিলুর রহমান, ৫ নং হরিদাসকাটি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী সভাপতি রেজাউল করিম সেক্রেটারি নুরুদ্দিন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—নির্বাচিত হলে ইসলামী মূল্যবোধ সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, কৃষকের অধিকার ও পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভবদহ সমস্যার টেকসই সমাধানে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, মণিরামপুর বাজারের যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও নারী-শিশু অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। উন্নয়ন হবে সবার, বৈষম্য থাকবে না কারও প্রতি—এই প্রতিশ্রুতিই তাঁর রাজনৈতিক দর্শন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক ১৯৫৯ সালে মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের পট্টি গ্রামে এক শিক্ষিত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ডা. মোজাম্মেল হক ও মাতা মরহুমা নুরজাহান বেগম। ১৯৭৪ সালে ঝিকরগাছা বদরউদ্দিন মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮২ সালে

ঝিকরগাছা শহীদ মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএল.বি (অনার্স) ও এলএল.এম ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন। পেশাগত সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক মনোভাবের কারণে তিনি এলাকায় একজন গ্রহণযোগ্য ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি, সংগঠনের দৃঢ় ভিত্তি এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে এবারের নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট—সব মিলিয়ে এ্যাড.গাজী এনামুল হক বিজয়ের সম্ভাবনা এবার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তার সমর্থকেরা। এখন শেষ পর্যন্ত ভোটের রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন মনিরামপুরবাসী।

Side banner
Link copied!