“যমুনা ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করেনি,” বলা হয় ডিএমপির বার্তায়।
জাবেরের ‘গুলিবিদ্ধ’ হওয়ার খবর ফেইসবুকে, পুলিশের অস্বীকার
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের ‘গুলিবিদ্ধ’ হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালেও পুলিশের তরফে অস্বীকার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে ডিএমপির পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, “যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করেনি পুলিশ।”
পুলিশের ভাষ্য, প্রধান উপদেষ্টার ‘নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে’ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু তারপরও শুক্রবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ ‘টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে’ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এই ঘটনা ‘ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য’ কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে ভাষ্য পুলিশের।
‘সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে’ পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে জানিয়ে বার্তায় বলা হয়েছে, “ওই ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারীও সামান্য আহত হয়।”
এ নিয়ে কোনো প্রকার ‘অপপ্রচারে’ বিভ্রান্ত না হতে আহ্বান জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে নানা কর্মসূচি পালন করে আসা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন।
একই দাবিতে শুক্রবার জুমার পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সংগঠনটি।
বিকাল ৪টার দিকে সেই জমায়েত থেকে যমুনা অভিমুখে রওনা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে মঞ্চের নেতাকর্মীদের, রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের এলাকা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত।
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটার পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এরমধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেইজ থেকে জাবেরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেওয়া হয়। যেটির বরাতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পুলিশ তা অস্বীকার করে বার্তা পাঠায়।
পুলিশের মতো একই বক্তব্য এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফেও।
রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাবেরের বাঁ পায়ের হাটুর উপরে জখমের চিহ্ন রয়েছে। এমন জখন নিয়ে তিন-চারজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ২২-২৩ জন এখানে এসেছেন।”
এদিকে বিকেল ৫টার দিকে মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন।
এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সামনে ‘সতর্ক অবস্থান’ নেওয়ার কথা বলেছে পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম দুটির কার্যালয়ে হাদির মৃত্যুর রাতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক ব্যক্তি।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।


আপনার মতামত লিখুন :