আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইশতেহারে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ৯টি প্রধান অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড চালু, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ৯ প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
১. ফ্যামিলি কার্ড চালু
প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের অঙ্গীকার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ সুবিধার পরিমাণ বাড়ানো হবে।
২. কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সুরক্ষা
কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বিমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
৩. স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগ
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
৪. কর্মমুখী ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা
বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং প্রাথমিক স্তরে ‘মিড-ডে মিল’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
৫. তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে।
৬. ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা
ক্রীড়াকে জীবিকা ও পেশার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
৭. পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার
সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও রপ্তানি সম্প্রসারণ
ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির অঙ্গীকার করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :