ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

এক আসনে পাঁচ প্রার্থী, চান্দিনায় ত্রিমুখী লড়াই

মোহাম্মদ আলী সুমন | জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০১:২০ পিএম এক আসনে পাঁচ প্রার্থী, চান্দিনায় ত্রিমুখী লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার চান্দিনায় ক্রমেই চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ২৫৫ নম্বর কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে নির্বাচনী মাঠ এখন জমজমাট। একটি মাত্র উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবারের নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন, যা ভোটের সমীকরণকে করেছে জটিল ও বহুমাত্রিক।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সোলাইমান খান, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি এহেতাশামুল হক কাসেমী এবং সংস্কৃতি মুক্তিজোটের প্রার্থী সজল কুমার কর।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে তিনি মোট ছয়বার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চারবার বিজয়ী হন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে, নির্বাচনী মাঠে থাকা বাকি চার প্রার্থী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় সরব সময় পার করছেন তারা। তবে সংস্কৃতি মুক্তিজোটের প্রার্থী সজল কুমার করকে প্রচারণায় তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হতে পারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের মধ্যে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ড. রেদোয়ান আহমেদকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পরও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নির্ধারিত সময়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ২১ জানুয়ারি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় বিএনপি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

ড. রেদোয়ান আহমেদের শক্তির জায়গা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় কাঠামো ও পূর্বের নির্বাচনী সাফল্য। অপরদিকে তরুণ নেতা আতিকুল আলম শাওনের মূল শক্তি তার সক্রিয় সমর্থকগোষ্ঠী ও বিদ্রোহী ভোটব্যাংক।

এছাড়া ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে সক্রিয় খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও ভোট বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কুমিল্লা-৭ আসনের এবারের নির্বাচন শুধু ব্যক্তি বা দলীয় প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দলীয় শৃঙ্খলা, বিদ্রোহী রাজনীতি এবং ধর্মভিত্তিক ভোটের প্রভাব যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব বনাম বিদ্রোহী তারুণ্যের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জয় আসে—সে দিকেই তাকিয়ে আছেন চান্দিনার ভোটাররা।

কালের সমাজ/এসআর

Side banner

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!