আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই হিসেবে নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১২ দিন। এর ইমধ্যে নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের ভোটের রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচন ঘিরে প্রচার-প্রচারণার শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী ও সমর্থকদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত ভোটের মাঠ।
প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দলের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আর বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচনের আগেই ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে এমন প্রশ্নও নেহায়েত কম নয়। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সংঘাতের শঙ্কাও ততই বাড়ছে।
সর্বশেষ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতা কিংবা দলীয় প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি ও বিশোদগারমূলক বক্তব্য নির্বাচনকে সামনের দিনে আরও সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে।
গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচার। প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ভোটের প্রচারে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। প্রচার শুরুর পর থেকেই কোথাও কোথাও সহিংস হয়ে উঠছে নির্বাচনের মাঠ। সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। তবে ভোটারেরা বলছেন, এরকম সহিংসতা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচন ঘিরে সংঘাত দুঃখজনক। নির্বাচনের প্রচারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চান ভোটারেরা। যার দেখা মিলছে না অনেক আসনে। সহিংসতায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে এ নিয়ে বেশ আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর কদিন আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর এই শঙ্কা বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল। এছাড়াও অন্তত ১০টি জেলায় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ গত বুধবার শেরপুরে ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে প্রথমে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর মধ্যে মাওলানা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে ২৮ জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে কদমতলী ৫২ নং ওয়ার্ডের ডিপটির গলির কাইল্লা পট্টিতে ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনে গণসংযোগকালে জামায়াত নেত্রীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী।
এর আগে ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ডিম হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যা নিয়ে তিনি অভিযোগ তুলেছেন তার প্রতিপক্ষ বিএনপির দিকে। ২৬ জানুয়ারি সকালে ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের ওপরও হামলা চালানো হয়। স্থানীয় ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার মোল্লার নেতৃত্বে এ হামলা করা হয় বলে এনসিপি অভিযোগ করেছে। ওই সময় আদীব ওই এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী ও দলটির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত প্রার্থী ও তার সহযোগীরা টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন এবং বিএনপির নাম ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন।
২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী আমবাগান এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরদিন দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুই দলই। একইদিন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ সদর সংসদীয় আসনে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
২৭ জানুয়ারি নাটোর-১ লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। নড়াইলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করছেন একজন প্রার্থী।
একইদিন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৫ জানুয়ারি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সম্প্রতি সংঘর্ষে জড়ান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াত কর্মী-সমর্থকরা। ভোটের প্রচারণায় কথার লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে যে আশঙ্কা-সাবধানবাণী উচ্চারণ করা হয়েছিল, নির্বাচনের মাঠে সেই পরিবেশই তৈরি হচ্ছে কি না সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেছেন, নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা বা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে সেটিও কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ। ছোট ছোট ঘটনাগুলোও কমিশনকে অ্যাড্রেস করতে হবে, যাতে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের শঙ্কাটা আস্থায় পরিণত হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সংঘাতমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হবে বলেও জানান তিনি। একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইলেকশন কমিশন একা নির্বাচন করতে পারে না, সম্ভব না। প্রার্থীরা যদি নিয়ম না মানে তখন নির্বাচন কমিশন যদি সবাইকেও মাঠ থেকে বের করে দেয়, লাল কার্ড দেখায় তাহলে তো ইলেকশনই হবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যে উসকানির একটা আবহ আমি পাচ্ছি, তবে এটা পরিহার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান বলেন, ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণা ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষের কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্বাচনের আগে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রচারণায় বাধাসহ যেসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে আসছে সেগুলো নজরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, আমরা যদি সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা বা প্রচার ঘিরে সহিংসতার জায়গা থেকে সরে না যাই, তাহলে গণঅভ্যুথ্থানের পর রাজনীতির ওপর মানুষের যে আস্থা এসেছে তা অনাস্থায় পরিণত হবে। অনেক প্রার্থী নিজের প্রতিশ্রুতি তুলে না ধরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বেশি ব্যস্ত। এ কারণে তৃণমূলের সমর্থকেরা সহিংস হয়ে উঠছে বলছেন বিশ্লেষকেরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকল পর্যায়ে একটা গণতান্ত্রিক ভাবধারা, রাজনৈতিক সৌন্দর্য ও শিষ্টাচার বজায় থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবজ্ঞিান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহাবুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনী প্রচারে ভার্বাল সহিংসতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণেই এটা আবার শারীরিক সহিংসতার দিকে চলে যাচ্ছে।
এদিকে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে এনসিপির কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ঢাকা-১৮ আসনে যেভাবে আমাদের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের ওপর হামলা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে আজই প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরু হলো। বিএনপি যদি শুরুতেই এভাবে বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলা করে, তাহলে পুরো নির্বাচনের জন্যই এটি নেতিবাচক বার্তা।
শেরপুর সহিংসতার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বৃহস্পতিবার সরকারের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত যে কোনও প্রাণহানি অগ্রহণযোগ্য এবং গভীরভাবে দুঃখজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। সরকার বিএনপি ও জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংযম নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনও স্থান নেই।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, শেরপুরের পুলিশ সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, শান্তি বজায় রাখা, আইনের শাসনকে সম্মান করা এবং শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সম্পৃক্ত করতে সব দল, নেতা ও প্রচারকদের অবশ্যই তাদের ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সব দিক থেকে শান্ত, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপর। অন্তর্বর্তী সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
জামায়াত নেতা হত্যা, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এর প্রতিবাদে ২৮ জানুয়ারি রাতেই ঢাবি ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিসি চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে ভিসি চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহসিন হল, মল চত্বর হয়ে টিএসসিতে এসে জড়ো হন তারা। এসময় রাজু ভাস্কর্যের সামনে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর নেতারা। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বিএনপি এখন হয়ে গেছে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ আর সন্ত্রসীদের আঁতুড়ঘর।
তিনি বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করলে আর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ৫ আগস্টের মতোই ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসবে। একইদিন রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকরা বিলম্বে উপস্থিত হয়ে চেয়ারে বসা নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়ায়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি সন্ত্রাসীরা জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ৫০ জনের বেশি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে রাত ৯টা ২০ মিনিটে মাওলানা রেজাউল করিম শাহাদাতবরণ করেন’, যোগ করেন তিনি। এদিন রাতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে হামলার পর আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই ঘটনাকে ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলেও অভিহিত করেন তিনি। তিনি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দাবি করেন।
তবে শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না, নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখলো? সেই দলের লোকজন কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করল? সবার সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে সেই দলের প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন, এসব বিষয় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


আপনার মতামত লিখুন :