ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকী আর মাত্র ২ দিন। কাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন। এটি চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। তবে নির্বাচনী উৎসবের প্রচারনায় মাইকিংয়ের অতিরিক্ত শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী।
এদিকে ভোটারদের মধ্যেও দেশ পরিচালনার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আগ্রহ ও রোমাঞ্চ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই ভোট নিয়ে আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও প্রত্যাশার কথা শোনা যাচ্ছে। অনেক ভোটারই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রত্যাশা করছেন। প্রচার শেষ হওয়ার পর থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর হবে। এ সময় কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ বা প্রচারণা চালানো যাবে না। আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি ভোটগ্রহণকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা।
মামলার আশঙ্কায় সরে দাঁড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জাপা প্রার্থী: ‘মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায়’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা। তিনি ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। রোববার সরাইল প্রেস ক্লাবে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি জানান জিয়াউল হক মৃধা। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব মামলার ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখিত সময়ে তিনি সংসদ সদস্য পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হলে তিনি ও তার নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে বিভিন্ন মহল থেকে ভয়ভীতি ও গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে পড়েন। এ কারণে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মতো স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারছেন না তিনি। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে জিয়াউল হক মৃধার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাসির খান। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার বলেন, তিনি যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে তিনি আমাদের কিছু জানাননি।
নারী শিক্ষা বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণ হবে: রোববার গুলশান লেক পার্কে গুলশান বনানী বারিধারা সোসাইটির নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে নারী বান্ধব একটি সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি উপজেলায় নিরাপদে সন্তান জন্ম দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর দেয়া হবে। নারী শিক্ষা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে ও বাল্যবিবাহ বন্ধে নারী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা সম্প্রসারণ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে নারী সাপোর্ট সেল গড়ে তোলা হবে। যেখানে নারীদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া কর্মজীবী নারীদের ক্ষেত্রে সবেতন ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা হবে। এ সময় পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনেরও কার্যকর বাস্তবায়ন হবে বলে জানান তিনি।
গুলিস্তানে গেলে পকেটে ফোন-মানিব্যাগ থাকে না : একইদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসিমউদদীন হলে প্রচারণা চালিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক এবং ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ঢাবির শিক্ষার্থীরা যেভাবে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, ঠিক তেমনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে তারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমাদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে হবে। নির্বাচিত হলে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, গুলিস্তানে গেলে আপনাদের পকেটে ফোন, মানিব্যাগ থাকে না। ১২ ফেব্রুয়ারির পরে আপনারা যাতে নিশ্চিন্তে গুলিস্তান যেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে বেলা ১১টায় ঢাবির শহিদ ওসমান হাদী হল (প্রস্তাবিত) থেকে প্রচারণা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে, বিজয় একাত্তর হল, কবি জসিমউদদীন হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে প্রচারণা চালান তিনি। এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তার প্রচারণা শেষ হয়।
ঢাকা-৫ আসনের উদ্যোগে তারুণ্যের উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: এদিন বিকেলে ঢাকা-৫ আসন কমিটির উদ্যোগে দনিয়া কলেজ মাঠে তারুণ্যের উৎসব অনুষ্ঠানে ঢাকা-৫ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেছেন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীর যত বিপ্লব অর্জিত হয়েছে সব বিপ্লবই তরুণদের হাত ধরে এসেছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের বিপ্লব এদেশের তরুণ যুবসমাজের হাত ধরেই অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের বয়কট করতে তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, বৈষম্যহীন ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এক কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান।
গণমিছিলে ভোটারদের জন্য রুমিন ফারহানার উড়ন্ত চুমু: রোববার বিকেলে গণমিছিলে অংশ নিয়েছেন আলোচিত নারী নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ সময় পথচারী ও ভোটারদের উদ্দেশ্য করে উড়ন্ত চুমু দিয়েছেন তিনি। এদিন বিকেল ৫টার দিকে সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মিছিল ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। মিছিল চলাকালে পথে পথে মানুষ শুভেচ্ছায় সিক্ত হন রুমিন ফারহানা। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার আগে এটিই রুমিন ফারহানার শেষ মিছিল।
উৎসবের প্রচারণায় মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী: শেষ মুহুর্তে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রার্থীদের প্রচার-মাইক ছড়িয়ে পড়েছে অলিগলি থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকা, বাজার ও হাসপাতালসংলগ্ন সড়ক পর্যন্ত। গত কয়েকদিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, উচ্চ শব্দের মাইক ও সাউন্ড সিস্টেমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী সাইদ খান সাগর। এ সময় নির্বাচনী প্রচারণার মাইকের তীব্র শব্দে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় জরুরি সেবা হটলাইন ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে মাইক বন্ধের ব্যবস্থা নেয়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোয় শব্দদূষণ দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিক দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অবিরাম মাইকিং, প্রচারগাড়ি থেকে উচ্চ শব্দের গান ও স্লোগান সেই দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আবাসিক এলাকা ছাড়াও বাজার, সরকারঘোষিত নীরব এলাকা ও হাসপাতালগুলোও শব্দদূষণের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যদিও নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, প্রচারণায় মাইক, সাউন্ড সিস্টেম ও লাউডস্পিকারের ব্যবহার বেলা ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা। এছাড়া প্রচারণায় ব্যবহৃত শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্রের মাত্রা ৬০ ডেসিবলের বেশি হওয়ার কথা নয়। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, সরকারঘোষিত নীরব এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক ও লাউডস্পিকারের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আদালত ও অফিস এলাকার ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে বাস্তবে এসব বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গুলশান-১ এলাকার বাসিন্দা শাহ রাফায়েত চৌধুরী বলেন, সরকারঘোষিত নীরব এলাকা হলেও প্রতি কয়েক মিনিট পরপর উচ্চ শব্দে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। কখনো অটোরিকশা, কখনো রিকশায় মাইক বেঁধে প্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু গুলশানে নয়, আমার অফিস নিকেতনে, সেখানেও একই অবস্থা। নির্বাচনী আচরণবিধিতে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা ৬০ ডেসিবল নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে শব্দের মাত্রা দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজের গবেষণায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবল পর্যন্ত পাওয়া গেছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আমিনবাজার, উত্তরা, টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, খিলগাঁও, ধানমন্ডি, শান্তিনগর, মালিবাগ ও পুরান ঢাকায় একই চিত্র দেখা গেছে।
ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, স্বাভাবিক সময়ে আবাসিক এলাকায় শব্দের মাত্রা ৮০ থেকে ৯০ ডেসিবলের মধ্যে থাকত। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর সেটি বেড়ে গড়ে ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবলে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, একদিকে নির্বাচন কমিশন শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করে দিলেও অন্যদিকে মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে, যা একধরনের স্ববিরোধিতা। তাঁর মতে, পোস্টার নিষিদ্ধের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা উচিত। হাসপাতাল এলাকাতেও শব্দদূষণের প্রভাব স্পষ্ট। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে, মাইক ব্যবহার করে নিয়মিত নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। রোগী ও স্বজনেরা এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকা রোগীর স্বজন আবুল কালাম বলেন, মানুষকে কষ্ট দিয়ে এসব প্রচারণার কোনো মানে হয় না। একই এলাকার দোকানি ওবায়দুল্লাহ মিয়া বলেন, মাইকের আওয়াজে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময়ের পর রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ কিংবা গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কাল ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল হওয়ায় ৩০০ আসনের পরিবর্তে ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে দেশের ৪৯টি জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। বাকি জেলাগুলোতেও রোববারের মধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বাধিক ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে—৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। সব মিলিয়ে প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি ২৯১ জন।
তবে ইসির সিনিয়র সচিব জানান, সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচনের উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সারাদেশে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কাল মঙ্গলবার প্রচার শেষ হওয়ার পর থেকেই মূলত শুরু হবে ভোটকেন্দ্র কেন্দ্রিক চূড়ান্ত কর্মব্যস্ততা এবং ভোটারদের মনে এখন দেশ পরিচালনার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের রোমাঞ্চ কাজ করছে।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :