এই সরকারের মেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
রোববার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ডিপি ওয়ার্ল্ড আমাদের কাছে কিছু সময় চেয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের হাতে মাত্র দুইটি কার্যদিবস বাকি রয়েছে। ফলে এই সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।”
তিনি জানান, এনসিটি ইজারা প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শুরু হয়। গত এক মাসে চুক্তির চূড়ান্ত বোঝাপড়ার ধাপে আলোচনা শুরু হলেও প্রক্রিয়াটি এখনো শেষ হয়নি। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের আলোচনা চলমান থাকবে এবং চুক্তি সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন হবে।
এদিকে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতির ফলে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন ও বহির্নোঙরসহ (আউটার লাইটারেজ) সব এলাকায় পণ্য খালাস ও পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের ৪ নম্বর গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
ন্দর রক্ষা বসংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, “সকাল ৮টা থেকে বন্দরে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমাতে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আইনি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য, এনসিটি ইজারা বাতিলের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ।


আপনার মতামত লিখুন :