নওগাঁ-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৭৫ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯ জন নারী ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ২ জন। আওয়ামী লীগের ‘ভোটব্যাংক’ বিএনপি না জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে যাবে, সেই হিসাব-নিকাশ করছে দুই দল।
একক প্রার্থী থাকায় শুরুর দিকে অনেকটা নির্ভার ছিল বিএনপি। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ভোটের সমীকরণ ততই পরিবর্তন হচ্ছে। এখন ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা সমানে সমান টক্কর দিচ্ছে। দাঁড়িপাল্লা এমন টক্কর দেবে, কল্পনাও করেননি বিএনপির লোকেরা। এখন কে জিতবে, কে হারবে নির্ধারণ করা বেশ কঠিন।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চারটি নির্বাচনে এ আসনে দুবার করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ জিতেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান।
তাঁর বিপরীতে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এনামুল হক ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনজনের মধ্যে মতিবুলের এলাকায় তেমন পরিচিতি নেই। প্রচার-প্রচারণাও নেই বললেই চলে। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে।
বিএনপির সমর্থকদের মতে, এখানে সামসুজ্জোহা খান ছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত নেতা খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী না হলেও দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির সদস্য পদ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
এ ছাড়া খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির সদস্য রুহুল আমিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তহিদুল ইসলাম ও ধামইরহাট পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়। এতে ভেতরে–ভেতরে দূরত্ব তৈরি হয়। নিজেদের অভ্যন্তরীণ দূরত্ব ঘোচাতে না পারলে ভোটে প্রভাব পড়তে পারে।
সোমবার সকালে পত্নীতলা নজিপুর নতুন বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন বিভিন্ন বয়সের ৮ থেকে ১০ জন। তাঁদের মধ্যে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। কারও মুখে ধানের শীষের প্রার্থী সামসুজ্জোহা খানের গুণগান, আবার কারও মুখে জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হকের গুণগান। কেউ বলছে ধানের শীষ কেউবা বলছে দাঁড়িপাল্লা।


আপনার মতামত লিখুন :