ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশে এক কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বেকারত্ব দূর করতে প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমুখী কর্মসংস্থান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।


সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা, আউটসোর্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বিএনপি। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য ছয় মাস থেকে এক বছর, প্রয়োজনে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।


বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলোকে এই কার্ড দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের খাদ্যসেবা প্রদান করা হবে, যা পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ দেশ গড়তে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জনগণের সরকার গঠন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, “তারুণ্যের প্রথম ভোট হবে ধানের শীষে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন।”

বিএনপি ক্ষমতায় এলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে যুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত নারী শিক্ষা মওকুফ করা হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে উচ্চশিক্ষায় নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, পৃথক যানবাহন ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবেন।


তারেক রহমান জানান, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথকেয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এ খাতে নারীদের মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং বিদেশগামীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, দেশ থেকে প্রায় ১৬০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। “ফ্যাসিবাদের সময় রাষ্ট্রের সম্পদ কিছু মাফিয়াচক্রের হাতে চলে গেছে,”—বলেন তারেক রহমান।

তিনি আরও জানান, দেশে প্রায় দুই লাখ মসজিদে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, প্রশাসন পরিচালনার মূলনীতি হবে সংবিধান। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, “বিএনপি এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার।”

ভাষণে তিনি বলেন, বিদেশে থাকলেও তার মন ও প্রাণ জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণ রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরে পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে বলেন, “হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।”

ভাষণের শেষাংশে তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন।”

 

 

 

Side banner
Link copied!