ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই: জামায়াত আমির

কালের সমাজ ডেস্ক | ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু একটি মহল সেই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে, কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং মানুষের অধিকার হরণ করার সুযোগ থাকবে না। এই প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর সাহস সবার থাকে না।


সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই—যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের।”


ভাষণের শুরুতে জামায়াত আমির জুলাইয়ের গণআন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন হয়েছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য এবং একটি ‘কালো রাজনৈতিক ধারার’ পরিবর্তনের জন্য। সে সময় তরুণ, নারী, শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবী শ্রেণি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এক হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল।


ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা একটি শাসকগোষ্ঠী মানবাধিকার, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে।

তার ভাষায়, “২০০৯ সালের পর থেকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও আয়নাঘরের মতো দমন-পীড়নের মাধ্যমে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার তামাশা।”


তিনি বলেন, এসব নিপীড়নের বিরুদ্ধে অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতেই রক্তাক্ত জুলাইয়ের জন্ম।


ভাষণে নতুন প্রজন্মের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, তরুণরা একটি ‘নতুন বাংলাদেশ—বাংলাদেশ ২.০’ দেখতে চায়।

“এই তরুণরা সাহসী, মেধাবী, পরিশ্রমী এবং প্রযুক্তিবান্ধব। তারা সত্য বলতে দ্বিধা করে না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই,”—বলেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদীসহ অন্যদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের রক্তের শপথ নিয়ে লাখো তরুণ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

ভাষণের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ নিরাপত্তা, সুশাসন ও ইনসাফ চায়। সেই লক্ষ্যেই রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি জানান, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সরকার কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিলেও সবগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। এসব সংস্কার নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে।

“এই গণভোট জনগণের ইচ্ছা প্রকাশের একটি বড় সুযোগ। আমি এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চাই,”—বলেন জামায়াত আমির।

Side banner
Link copied!