লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির গাড়িতে ১৫ লাখ টাকা পাওয়ার ঘটনায় ওঠা বিতর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বিএনপি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান জানান, উদ্ধারকৃত অর্থ কোনো অবৈধ লেনদেন নয়, বরং কেন্দ্রের খরচ মেটানোর জন্য নির্ধারিত ছিল।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বহু বছর পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনের জন্য আমরা দীর্ঘ লড়াই করেছি। আমাদের বহু সাথী জীবন দিয়েছে। গত ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্ট মাসে আমাদের সাথীরা-সন্তানরাও জীবন দিয়েছে। সেই নির্বাচন আগামীকাল ভোর সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হবে। আমরা খুব আন্তরিকভাবে আশা করছিলাম, যারা এ লড়াইয়ে যুক্ত ছিলাম, নির্বাচনে মূলত তারাই অংশগ্রহণ করছে। ফলে, আমাদের সাথীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে, আন্তরিকতার সঙ্গে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এ নির্বাচনে যুক্ত থাকবেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা তো সবারই থাকে। কিন্তু সে আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য অনৈতিক পথ গ্রহণ করা, বেআইনি পথ গ্রহণ করা, এটা কাঙ্ক্ষিত ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, আজকে সারা দিনে যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি, তাতে আমরা খুবই মর্মান্ত। প্রায় ১২৭টি বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এর বাইরে আরও আছে, সবগুলো আমরা দেখতেও পারিনি। এগুলো আমাদের হতাশ করে।
তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াত নেতার কাছে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটা তার ব্যবসার টাকা। কিন্তু মিডিয়ায় এসেছে, তিনি কোনো ব্যবসায়ী না। তার ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন অনুযায়ী, তার বার্ষিক উপার্যন চার লাখ টাকার কিছু বেশি। নীতিকথা ও সৎ কথা যারা সবসময় বলেন তাদের দলের নেতার এমন আচরণ দুঃখজনক।
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, পাঁচ লাখ কেন, পাঁচ কোটি টাকা বহন করা কোনো ইস্যু না, নির্বাচন কমিশন সচিবের এমন বক্তব্য মিসকোট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধি দলের কাছে এসব কথা বলেন ইসি সচিব। গণমাধ্যমেও এসব কথা বলেছেন তিনি।
এর আগে, এই বিষয়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় জানান, তার নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি তল্লাশি করে পাওয়া টাকাগুলো মূলত বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের এজেন্টদের খরচ মেটানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
উদ্ধার করা টাকা নিয়ে প্রচারিত সংবাদ বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে তিনি বলেন, প্রকৃত পক্ষে যে নিউজ সেটি হলো, আমার নির্বাচনী অ্যাজেন্ট গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সেখানে আমার যে ব্যাগ, তার মধ্যে ১৫ লাখ টাকা কেন্দ্র ওয়াইস দেওয়ার জন্য ছিল। কর্তৃপক্ষ সেটা চেক করেছেন এবং কোর্ট থেকে ইতোমধ্যে রিলিজও করেছেন যে, এটা সত্যিই কেন্দ্র ফি বাবদ ব্যবহার হচ্ছে। তাই বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।
তিনি আরও বলেন, যারা এটা নিয়ে নিউজ করছেন, আমি মনে করি, সম্পূর্ণরূপে উদ্দেশ্যমূলক। আমার ইমেজকে ক্ষুণ্ন করার জন্য এই ধরনের খবর ছাপা হচ্ছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
এর আগে লক্ষ্মীপুরে উদ্ধার করা সেই টাকা নিয়ে কথা বলেন এ্যানি চৌধুরী। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক ভিডিওবার্তায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।
এ্যানি চৌধুরী বলেন, আমি লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনী কাজে নিজ ব্যস্ত আছি। এরই মধ্যে আমি শুনতে পেলাম, আমার নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত যে গাড়ি, সেটি চেক করেছে।
উদ্ধার করা টাকা নিয়ে প্রচারিত সংবাদ বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে তিনি বলেন, প্রকৃত পক্ষে যে নিউজ সেটি হলো, আমার নির্বাচনী অ্যাজেন্ট গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সেখানে আমার যে ব্যাগ, তার মধ্যে ১৫ লাখ টাকা কেন্দ্র ওয়াইস দেওয়ার জন্য ছিল। কর্তৃপক্ষ সেটা চেক করেছেন এবং কোর্ট থেকে ইতোমধ্যে রিলিজও করেছেন যে, এটা সত্যিই কেন্দ্র ফি বাবদ ব্যবহার হচ্ছে। তাই বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।
তিনি আরও বলেন, যারা এটা নিয়ে নিউজ করছেন, আমি মনে করি, সম্পূর্ণরূপে উদ্দেশ্যমূলক। আমার ইমেজকে ক্ষুণ্ন করার জন্য এই ধরনের খবর ছাপা হচ্ছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :