নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলটির কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, নানা ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। জনগণের সচেতনতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে অন্যায় প্রতিরোধই হবে, অপতৎপরতার উপযুক্ত জবাব।
ভোটের প্রচার শেষ হওয়ার দিন ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে নির্বাচনের কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। জামায়াতের আমির এরপর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ১১ দলের নেতাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কিনা- প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলের বক্তব্যে কিছু যায় আসে না। জনগণ যদি বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, তাহলে ১১ দল পরাজিত হলেও ফলাফল মেনে নেবে। জনগণের ওপরই আস্থা রাখি।
আইনশৃঙ্খলায় সন্তুষ্ট কিনা–প্রশ্নে জামায়াত আমির বলেছেন, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। ভোটের মাঠ নষ্ট করার চেষ্টা জনগণ বরদাশত করবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা করি। তবে তারা ব্যর্থ হলে জনগণ বসে থাকবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করবে।
জামায়াতের আমির প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করেছেন। তাদের কাছে নিরপেক্ষতা আশা করেন জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাহলে জনগণ ভালোবেসে মূল্যায়ন করবে। কর্মচারীদের কেউ নির্দিষ্ট কারও পক্ষ নেবে, এটি দেখতে চাই না। আবার আনুকূল্যও চাই না। আবার অন্য কাউকে আনুকূল্য দেবে, সেটিও হবে না।
নির্বাচনের দিনেও নানা গুজব ছড়ানো হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেছেন, ১১ দলের সুষ্পষ্ট বক্তব্য ছাড়া গ্রহণ করবেন না। যারা পরাজয়ের ভয়ে ভীত, তারা মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে পারে। ভয়ভীতি দেখাতে পারে। এসবকে জয় করেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটের ফল না পাওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়বেন না। কারণ, নয়ছয় হতে পারে।
জনগণ ভোট উৎসবে শামিল হতে মুখিয়ে রয়েছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেছেন, পরপর চারটি নির্বাচনে ভোট জনতা দিতে পারেনি। এবার মানুষ ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে। ঈদের মতো করে মানুষ গ্রামে যাচ্ছে। গণরায় প্রতিফলিত হলে নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।
তরুণরাই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে আশা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত দায়িত্ব পালন করবে। আশা করব, কেউ অন্য কিছু করার চেষ্টা হলে জনগণই প্রতিরোধ করবে। জনতারই বিজয় হবে। পেছনের দরজা দিয়ে এসে কেউ কিছু করতে পারবে না। নির্বাচনী জয়ী সরকার হবে সকলের সরকার। জনগণের বিজয় চায় ১১ দল। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ১১ দল সহায়তা করতে প্রস্তুত।
নির্বাচনী প্রচার শেষ হওয়া নিজ দলের পক্ষে ভোটপ্রার্থনা থেকে বিরত থাকেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেছেন, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে। স্বৈরতন্ত্রের পথ বন্ধ হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদরা ন্যায়বিচার পাবেন। ১১ দল সংস্কারের পক্ষে। পরিবর্তনের পক্ষে। দুর্নীতি, দুঃশাসনের কারণে জাতি এগোতে পারেনি। ১১ দল ন্যায়বিচার এবং সুশাসন চায়। এতে সমাজ এগোবে। দেশব্যাপী উৎসবের আমেজ বইছে। গণরায় প্রতিষ্ঠা হলে জাতির আনন্দ পূর্ণতা পাবে।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :