তার পরেও অন্তত ২৩টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। আর জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন অন্তত ৫টিতে। ১১টি আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নির্ভর করছে ভাসমান ভোটারদের ওপর। যারা বর্তমানে কোনো দলকেই সমর্থন করছেন না, তবে ভোটকেন্দ্রে গেলে এসব ভোটাররা প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের যে কাউকে জয় বা পরাজয়ের মুখে ফেলবেন।
এই অংশটি হলো, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক এবং নারী ভোটাররা। কোথাও কোথাও আদিবাসী ভোটাররাও নির্বাচনে এবার বড় ধরনের প্রভাব ফেলবেন।
দলীয় সূত্র মতে, রাজশাহী বিভাগের ৮টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এসব আসনের প্রতিটিই একটা প্রচ্ছন্ন চাপের মুখে পড়েছেন দলীয় প্রার্থীরা। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে একটি আসনে দুজন বিদ্রোহী প্রার্থীও আছেন। ফলে এসব আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীই দলের মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে আছেন। এর বাইরে যেসব আসনে বিদ্রোহী আছেন সেগুলো হলো, নাটোর-১, নাটোর-৩, নওগাঁ-১, নওগাঁ-৩, নওগাঁ-৬ পাবনা-৩, পাবনা-৪।
সূত্র মতে, রাজশাহী-২ (নদর), ৩ (পবা-মোহনপুর ও ৫ (বাগমারা) আসনে অনেকটায় সুবিধাজনক অবস্থায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। তবে লড়াই জমে উঠেছে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী), ৪ (বাগমারা) ও ৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে। রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের সঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর
রহমান, রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়ার সঙ্গে জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জোরালো। আর রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াতের মঞ্জুর রহমান এবং বিএনপির বিদ্রোহী রেজাউল করিমের সঙ্গে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপির হারুনুর রশীদের সঙ্গে জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুল, চাঁপাইবনাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির শাহাজান মিঞার সঙ্গে জামায়াতের কেরামত আলীর লড়াই হবে। তবে শক্ত অবস্থানে আছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।
নাটোরের চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে লড়াই করছেন দলটিরই সাবেক দুই নেতা। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে আছেন জামায়াতের দুই প্রার্থী। এর মধ্যে একটিতে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমীনের পাশাপাশি রয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির সাবেক নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু ও জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ আছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির নেতা জার্জিস কাদিরও রয়েছেন।
তবে এখানে লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জোরালো। বাকি দুটির মধ্যে নাটোর-২ আসনে বিএনপির রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর শক্ত অবস্থানে থাকলেও ও নাটোর-৪ আসনে বিএনপির আব্দুল আজিজের সঙ্গে জামায়াতের আব্দুল হাকিম লড়াই হবে বেশ জোরালো।
নওগাঁর ৬টি আসনের মধ্যে তিনটি রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। নওগাঁ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্হে লড়ছেন বিদ্রোহী ছালেক চৌধূরী। আছেন জামায়াতের মাহবুবুল আলম। নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছি) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিদ্রোহী সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী। এখানে আছেন জামায়াতের প্রার্থী মাহফাজুর রহমান। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনেও রয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর কবির। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার। তার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম। আছেন জামায়াতের প্রার্থীও। বাকি তিনটিতেই বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছেন।
পাবনায় ৫টি আসনের মধ্যে দুটি রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া-ফরিদপু-চাটমোহর) বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাবিদ তুহিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিদ্রোহী সাবেক এমপি একেএম আনোয়ারুল ইসলাম ও জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আছগার। তাঁদের তিনজনের মধ্যে লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাবনা-৪ (ইশ^রদী-আটঘোরিয়া) বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় চেয়ার পার্সনের সাবেক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিদ্রোহী জাকারিয়া পিন্টু ও জামায়াতের প্রার্থী নায়েবে আমীর আবু তালেব মণ্ডল। তবে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের।
জয়পুরহাটের দুটি আসনেই বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির এম আকবর আলীর সঙ্গে জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির আমিরুল ইসলাম খানের সঙ্গে জামায়াতের আলী আলম, পাবনা-১ আসনে বিএনপির শামসুর রহমানের সঙ্গে প্রয়াত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, পাবনা-৩ আসনে বিএনপির হাসান জাফির তুহিনের সঙ্গে জামায়াতের মুহাম্মদ আলী আছগার, পাবনা-৪ আসনে বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে জামায়াতের আবু তালেব মন্ডল ও পাবনা-৫ আসনে বিএনপির শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে জামায়াতের ইকবাল হোসাইন লড়াই জমিয়েছেন।
বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে অন্তত ৫টিতেই এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থীরা। তবে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের মো. শাহাবুদ্দিন; বগুড়া-২ আসনে বিএনপির মীর শাহে আলম ও জামায়াতের আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান; বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার ও জামায়াতের নূর


আপনার মতামত লিখুন :