ঢাকা বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

রাজশাহী চরের ভোটে যাতায়াতই প্রধান সমস্যা

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী | ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম রাজশাহী চরের ভোটে যাতায়াতই প্রধান সমস্যা

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী, পবা ও বাঘা উপজেলায় পদ্মার চর রয়েছে। গোদাগাড়ীর আষাড়িয়াদহ, পবার খানপুর, খিদিরপুর, মাজারদিয়াড়, বাঘার চকরাজাপুর, কালিদাসখালি, লক্ষ্মীনারায়ণপুর চরে মানুষের বসবাস। এই চরগুলো ৬৮ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস।

এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০১ জন। পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৯৪৭ জন। পদ্মার চরে পদ্মার চরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলো নৌকা। এর পর সুষ্ক মৌসুমে নৌাকা থেকে মোটরসাইকেল অথবা পায়ে হেটে চলাচল করতে হয় চরবাসীকে। বর্ষায় নৌকায় পারাপারে লাগে মাথাপিছয ৫০ টাকা, এখন গ্রীষ্ম মৌসুমে নৌকায় দিতে হয় ৩০ টাকা।

নৌকা থেকে নেমে মোটরসাইকেল নিয়ে চরে যেতে লাগে ১৫০ টাকা।
রাজশাহীর চর আষাঢ়িয়াদহ এলাকার বাসিন্দা সুজন আলী বলেন, ‘চরের যাতায়াত সত্যিই কষ্টের। এগুলো চরের মানুষের অভ্যাস হয়ে গেছে। তার পরেও দূরের ভোটকেন্দ্রে পায়ে হেঁটে ভোট দিতে হয়তো অনেকেই যেতে চাইবে না। এ কারণে ভোটার উপস্থিতি খুব বেশি হবে বলে মনে হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ভোট গ্রহণ করতে আসবেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বড় সমস্যা হবে। চরের ভোটকেন্দ্রে কোনোকিছু ঘটলে দ্রুত সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। যদিও আমাদের এলাকায় কখনো ভোট নিয়ে কিছু হয়নি। তার পরেও চরের ভোটে এটিই বড় সমস্যা।’

চর খানপুর এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সাড়ে ৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে চর খিদিরপুর কেন্দ্রে ভোট দিতে। এতোটা পথ পায়ে হেঁটে কতজন ভোট দিতে যাবেন? পুরুষ মানুষরা গেলেও নারীরা ভোট দিতে তেমন যাবে না বলেই মনে হচ্ছে।

রাজশাহীর চর মাঝারদিয়াড় এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহীর গোটা চরই সীমান্ত এলাকা। সীমান্ত এলাকা মানেই ঝুঁকিপূর্ণ। তার পরও সবই হলো পায়ে হাাঁটা পথ। কিছু পথ আছে মোটরসাইকেল চলাচল করে। কিন্তু নারীরা তো আর মোটরসাইকেল চড়ে ভোট দিতে যাবে না। আবার ভোটকেন্দ্রে কোনো কিছু হলে নারীদের ঝুঁকি আরও বাড়বে। যারা ভোট গ্রহণে দায়িত্বে থাকবেন, তাদেরও ঝুঁকি আছে। এবার এমনিতেই দেশের অবস্থা ভালো মনে হচ্ছে না। ফলে ভোটে এবার চরের বাসিন্দাাদের তেমন আগ্রহ নাই। তবে চরের ভোটকেন্দ্রে ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন আগে থেকেই তৎপর বলে মনে হচ্ছে।’

পবার হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাফর ইবনে আলম প্রমিজ বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি অন্তত দুটি কেন্দ্র হোক আমাদের চরে। কিন্তু প্রশাসনকে সেটি কোনোভাবেই বুঝানো যায়নি। ফলে সাড়ে ৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ভোট দিতে যাওয়া লাগবে চর খানপুরের বাসিন্দাদের। এখানে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। অনেকেই ভোটই দিতে যাবেন না বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

Side banner
Link copied!