পরমাণু চুক্তির জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়ে বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ের মধ্যে পরমাণু চুক্তি না হলে ইরানে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী সভায় এ কথা জানান ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা না চালালে, তেহরানের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করত। যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো এখন আরও এক ধাপ এগোতে হবে। না–ও হতে পারে। হয়তো একটি চুক্তি হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই সম্ভবত তা জানা যাবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
জবাবে চীন ও রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরে যৌথ নৌ মহড়া চালায় ইরান। এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে মহড়া চালিয়েছে আইআরজিসিও।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের সংবেদনশীল পারচিন সামরিক স্থাপনার ওপর কংক্রিটের শক্ত ঢাল তৈরি করেছে ইরান।
ধারণা করা হচ্ছে, আকাশপথে হামলা ঠেকাতে এটি করা হয়েছে। ছবিতে আরও দেখা যায়, ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পুননির্মাণের পর মাটি ও কংক্রিট দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। এছাড়া, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছেও প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে ইরান।
এ অবস্থায় ইরান ইস্যুতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনৌনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে। এসময় সব পক্ষকে সংযম ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল ঘাঁটি থেকে কিছু সদস্যকে সরিয়ে নিয়েছে জার্মানি। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এতথ্য জানানো হয়।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :