ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

রাজশাহীতে বোরোর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ টন

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী | ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম রাজশাহীতে বোরোর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ টন

রাজশাহীতে এখন চলছে বোরোর চারা রোপণ। বরেন্দ্রের মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের উৎসব। চলতি মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বীজ তোলা এবং রোপণ করার কাজ। আর এই জমি থেকে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩০৩ টন ধান উৎপাদনের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ৯টি উপজেলা তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাট মিলিয়ে প্রায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়েছে শুরু হয়েছে বোরো রোপণ। তখন কনকনে  হাড় কাপানো শীত উপেক্ষা করেই শুরু হয় বোরো রোপণের কার্যক্রম। চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ করা হয়েছে।

 

বিশেষ করে গোদাগাড়ী, তানোর, পবা ও মোহনপুর উপজেলার মাঠগুলো এখন কৃষকদের কর্মতৎপরতায় মুখর। কৃষকদের চোখেমুখে আগামীর স্বপ্ন।

 

পবা উপজেলার দারুশা এলাকার কৃষক মতিউর রহমান বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে চাষবাস করি। এবার শীতটা একটু বেশি ছিল, তাই বীজতলা তৈরি করতে ভয় লাগছিল। কিন্তু কৃষি অফিসের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে ঢেকে চারাগুলো রক্ষা করেছি। এখন চারা বেশ শক্ত হয়েছে, আশা করছি ফলন ভালো হবে। তবে শুধু আশার কথা নয়, খরচের দুশ্চিন্তাও ভর করেছে অনেক কৃষকের মনে।

 

তানোর উপজেলার কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, সবকিছুর দাম বাড়ছে। ডিজেলের দাম আর সারের দাম বাড়ার কারণে এবার চাষের খরচ একটু বেশি পড়বে। আমরা যারা বর্গাচাষী, তাদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে, তবেই আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।

 

এ বছর রাজশাহীর মাঠগুলোতে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। কৃষকরা এখন ব্রি ধান-২৮ বা ২৯-এর পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯২ এবং জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০০ চাষে বেশি আগ্রহী। গোদাগাড়ীর কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, আগে পুরনো জাতের ধান লাগাতাম, ফলন কম হতো। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নতুন জাতের বীজ লাগিয়েছি। খরচ আগের মতোই, কিন্তু ফলন কয়েক মণ বেশি হবে শুনছি। সেটাই এখন বড় ভরসা।

 

বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ  নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।  এছাড়া বাজারে যাতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় সেই ব্যাপারে সরকারের প্রতি লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষকরা।

 

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিতা সরকার বলেন, রাজশাহী জেলায় বোরো রোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার প্রায় অর্ধেক জমিতে বোরো রোপণ করা সম্পন্ন হয়েছে।

 

Side banner
Link copied!