ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্র্যাক ব্যাংকের ইএসজি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫ প্রকাশ

কালের সমাজ ডেস্ক | আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম ব্র্যাক ব্যাংকের ইএসজি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি  রিপোর্ট ২০২৫ প্রকাশ

 ‘ইএসজি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ প্রকাশ করেছে ব্র্যাকব্যাংক। ‘ড্রাইভিং ইনোভেশন, অ্যাডভান্সিং ইনক্লুশন অ্যান্ড ক্রিয়েটিং ইমপ্যাক্ট’ প্রতিপাদ্যে প্রকাশিত এই রিপোর্টে পিপল, প্ল্যানেট ও প্রসপারিটি—এই তিনটি ক্ষেত্রে ব্র্যাকব্যাংকের টেকসই কার্যক্রম, অগ্রগতি ও প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যাংকটির কৌশল, অর্থায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পরিচালনকার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) বিষয়গুলো কীভাবে ক্রমেই আরও সম্পৃক্ত হচ্ছে, তা তুলে ধরা হয়েছেএইরিপোর্টে। পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন, জলবায়ু কার্যক্রম, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক প্রভাব, ডিজিটাল উদ্ভাবন, দায়িত্বশীলব্যাংকিং ও সুশাসনে ব্যাংকের অগ্রগতির চিত্রও উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের রিপোর্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এইরিপোর্টটিতৈরিকরাহয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী। রিপোর্টে ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবিলিটি স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ডের (আইএসএসবি) আইএফআরএস এস-১ ও এস-২ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) স্ট্যান্ডার্ড এবং পিসিএএফ গ্লোবাল জিএইচজি অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ব্র্যাক ব্যাংক পিসিএএফ মেথডোলজি অনুসরণ করে অর্থায়নজনিত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণেরপরিমাণওপ্রকাশ করে, যা পিসিএএফ কর্তৃক অনুমোদিত এবং তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত।
রিপোর্টটিতে ব্র্যাক ব্যাংকের আরেকটি যুগান্তকারী অর্জন হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম ১,০০০ কোটি টাকার সোশ্যাল বন্ড ইস্যুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (আইসিএমএ) ‘সোশ্যাল বন্ড প্রিন্সিপলস ২০২৫’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই বন্ডের অর্থ সিএমএসএমই, নারী-নেতৃত্বাধীন ব্যবসা, কৃষি, সাশ্রয়ী আবাসন ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাসহ অগ্রাধিকারমূলক সামাজিক খাতের অর্থায়নে ব্যবহৃত হবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সামাজিক প্রভাবভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করবে।
২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের মোটলোন পোর্টফোলিওর ৮৩ শতাংশই টেকসই অর্থায়নখাতেদেওয়াহয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ৪০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখ যোগ্য ভাবে বেশি।
এছাড়াও ব্যাংকটি স্বল্প-কার্বন ও জলবায়ুসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে প্রায় ৫,০৪৫ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে এবং ১৩৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে। প্রকল্প দুটি বছরে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়াতে সক্ষম হবে বলে আশাকরাহচ্ছে।
প্রতিবেদনে টেকসই ব্যাংকিংয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের স্বীকৃতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। ৩.৯৪ ইএসজি স্কোর নিয়ে ব্লুমবার্গের মূল্যায়নে বাংলাদেশের শীর্ষ টেকসই ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবেপঞ্চমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ টেকসই ব্যাংকের তালিকায়ও স্থান পেয়েছে ব্যাংকটি।
ইএসজিঅ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “অর্থায়নকার্যক্রম, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভ্যালুসৃষ্টির প্রতিটি ক্ষেত্রেই টেকসই তারবিষয় টিকে আমরা জোর দিই। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষ, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য পরিমাপযোগ্য ইমপ্যাক্টতৈরিরমাধ্যমে বাংলাদেশে দায়িত্বশীল ব্যাংকিংয়ের মান আরও উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
রিপোর্টটি ব্র্যাক ব্যাংকের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাচ্ছে:https://www.bracbank.com/en/page/investor-relations

কালের সমাজ/কে.পি

 

অর্থনীতি বিভাগের আরো খবর

Link copied!