ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

দাবি সঞ্জয় রাউতের, মোদি সরকারের সময় ঘনিয়ে এসেছে

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম দাবি সঞ্জয় রাউতের, মোদি সরকারের সময় ঘনিয়ে এসেছে

চলমান বিক্ষোভকে ‘জনবিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়ে সঞ্জয় রাউতের দাবি, নরেন্দ্র মোদি সরকারের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে সরকারের পতন হবে।

শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) দলের সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাউত শনিবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘটবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বিক্ষোভে যোগ দিতে প্রতিবাদকারীরা যাতে দিল্লিতে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য সরকার বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন এবং অবরোধের ব্যবস্থা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

চলমান বিক্ষোভকে ‘জনবিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়ে রাউত দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদি সরকারের শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে এই সরকারের পতন ঘটবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাউত দাবি করেন, তরুণ নাগরিক ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ভয় পাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। সেখানে পুলিশ তাকে আটক করে। রাউত দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদলের পূর্বাভাস দিয়ে দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘এই সরকার টিকবে না। মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে মোদি সরকারের শেষ নিশ্বাস পড়বে এবং দেশে একটি জাতীয় সরকার গঠিত হবে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ জন্মদিন হবে বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা-ও পুনরায় উল্লেখ করেন রাউত। তিনি আরও বলেন, ‘মোদি যদি না থাকেন, তাহলে অমিত শাহও থাকবেন না।’

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নিশানা করে রাউত প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকরের একটি বিখ্যাত সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন। তার বক্তব্য, একটি ‘তেলাপোকাও’ সরকারকে ক্ষমতাহীন করে দিতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নেতারা শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়ক নন, বরং ‘ব্যবসায়ী’। আর ব্যবসায়ীরা দ্রুত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

রাউতের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত দিল্লিকে জম্মু-কাশ্মীরে পরিণত করেছে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে পৌঁছানো ঠেকাতে প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন দিল্লির বাইরে আটকে রাখা হয়েছে এবং ট্রেন চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ব্রিটিশ আমলের দমন-পীড়নের সঙ্গে তুলনা করে রাউত কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানাতে চাওয়া তরুণদের আটকাতে সরকার কেন দিল্লি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

রাউত বলেন, ‘ব্রিটিশ শাসনামলেও এত ব্যাপক অবরোধ-বিক্ষোভ দেখা যায়নি। চারদিকেই হাজার হাজার যানবাহন আটকে রয়েছে। কোন আইনে বিক্ষোভকারী তরুণদের দেশদ্রোহী ও দেশবিরোধী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে?’তিনি দিল্লি পুলিশকে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা বেআইনি নির্দেশ অনুসরণ না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার ভোট কারচুপি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: ক্ল্যারিয়ন ইন্ডিয়া

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!