বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অবৈধ পুশইন বন্ধের দাবি।
বৈঠকে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। বিজিবি সূত্র জানায়, গত দুই বছরে বিএসএফ দুই হাজারের বেশি মানুষকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিকও ছিলো। অভিযোগ এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত যাচাই-বাছাই ও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে গত মে মাস থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজিবি।
বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যথাযথ পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদেরই কেবল গ্রহণ করা হবে। অন্য কোনো দেশের নাগরিক বা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। বিজিবি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দেবে। বৈঠকে সীমান্তহত্যা বন্ধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সীমান্তে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থি। তাই সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া বাংলাদেশের আকাশসীমায় ভারতীয় ড্রোন ও হেলিকপ্টারের অনুপ্রবেশ, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ, মাদক ও মানব পাচার প্রতিরোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধের বিষয়গুলোও আলোচনায় থাকবে।
অবকাঠামোগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এলাকায় অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপনে তিনবিঘা করিডোর ব্যবহারের বিষয়টি উত্থাপন করবে বিজিবি। পাশাপাশি ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশকারী শিল্পবর্জ্য রোধে সীমান্তবর্তী খালগুলোতে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
কুশিয়ারা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে অবৈধ পুশইনের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। তিনি জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবারের সম্মেলনকে দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন ও অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

