ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিপর্যস্ত সিরাজগঞ্জ, শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

বিশেষ প্রতিনিধি | জুন ২৭, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিপর্যস্ত  সিরাজগঞ্জ, শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

তীব্র নদী ভাঙ্গণে দিশেহারা সিরাজগঞ্জের যমুনা পারের মানুষ। যমুনায়  পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। বিশেষ করে কাজিপুর চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে গত দুই সপ্তাহে ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের চরগিরিশ চরে একসময় ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বসবাস ছিল। দীর্ঘদিনের ভাঙনে এরই মধ্যে প্রায় ১৫০টি পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গত ১০ দিনে আরও অন্তত ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশঙ্কা, ভাঙনের গতি অব্যাহত থাকলে আরও শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীতে তলিয়ে যেতে পারে।

ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, কয়েক দিনের ব্যবধানে তাদের জীবনের সব সঞ্চয় নদীগর্ভে চলে গেছে। শুধু ঘরবাড়িই নয়, পূর্বপুরুষের কবর, মসজিদ কৃষিজমিও হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অন্যদিকে চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, বিনানুই ভুসুরিয়া চরাঞ্চলে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দোকানপাটসহ অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে।

নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ জিও টিউব ফেলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব অস্থায়ী ব্যবস্থা ভাঙন রোধে কার্যকর হচ্ছে না। তারা যমুনার তীর রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভাঙন রোধে চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে শুধু কাজিপুর চৌহালী নয়, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি শাহজাদপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাতেও ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলও সম্ভব হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে সেন্টিমিটার এবং কাজিপুর পয়েন্টে সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চৌহালী সদর উপজেলার বাহুকা এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ চলছে। তবে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন বলে তারা উল্লেখ করেছেন। প্রয়োজন হলে চরাঞ্চল রক্ষায় সমীক্ষা করে স্থায়ী প্রকল্পের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

 কালের সমাজ/এএইচবি 

Link copied!