দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হতে যাচ্ছে আগামী ২০ আগস্ট। এদিনই নতুন রাষ্ট্রপতি পাচ্ছে বাংলাদেশ। এদিকে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন?
দলের একাধিক সূত্র বলছে, মহাসচিবের পদ শূন্য হলে পদাধিকার বলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিলে তাকে ভারমুক্ত করে পূর্ণ মহাসচিব করা হতে পারে। যদিও তার বাইরেও সাবেক ছাত্র নেতৃত্ব থেকে বিএনপিতে আসা কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে।
এক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। কোনও কারণে এই দুই জনের কেউ মহাসচিব না হলে— আরও দুই সাবেক ছাত্রনেতার মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে। তারা হলেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কিংবা যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
রাজপথের অভিজ্ঞতা ও ক্লিন ইমেজেরে কারণে ঘুরেফিরে এই চারজনের নামই মহাসচিব পদে আলোচনায় আসছে। তবে এর বাইরেও অন্য কেউ মহাসচিব হতে পারেন এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কেউই। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হয়ে গেলে মহাসচিব পদে তার উত্তরসূরী হিসেবে একাধিক নেতা আলোচনায় থাকলেও এর মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণকে বিবেচ্য হিসেবে দেখছে হাইকমান্ড। সূত্র জানায়, তারা ছাত্রজীবন থেকেই আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা।
এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তার দক্ষতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, গুমের শিকার হওয়া এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে তার তথ্যপূর্ণ বাগ্মিতার কারণেও মহাসচিব হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও সালাহউদ্দিন আহমদের সম্ভাবনা বেশি বলে দাবি সূত্রটির।
মহাসচিব পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘদিন দলের দফতর ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিগত দেড় দশকে মামলা-হামলা উপেক্ষা করেই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। রাজপথে মিছিল করতে গিয়ে বাধার মুখেও পিছপা হননি। অনেক সময় হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন। বারবার কারাগারে গেছেন। তারপরও তখন নয়াপল্টনই যেন ছিল তার ঘরবাড়ি। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলেও নয়াপল্টন কার্যালয়ে তার যাতায়াত কোনোভাবেই কমেনি। তাই একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষনেতাদের গুডবুকে তাঁর নামও আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সংসদ সদস্য জানান, আসলে রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন—মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কৌশলগত কারণে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
একটি সংবাদমাধ্যমকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বা দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, এ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বললেও আমাদের পক্ষে বলা কঠিন। কারণ যিনি এখন মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি রাষ্ট্রপতি হলেই তো মহাসচিবের পদ নিয়ে কথা হবে। যদি মহাসচিবের পদ শূন্য হয়, সেক্ষত্রে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীকালে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে। আপাতত এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
কালের সমাজ/কে.পি

