প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে শিক্ষা সনদের পরিবর্তে পাসপোর্ট, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন প্রমাণাদি গ্রহণের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা সনদ না থাকলেও এনআইডি সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সিদ্ধান্ত হলে এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সংশোধন করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অনেকে অল্প বয়সে পাসপোর্ট করে পরিবারের সচ্ছলতা আনতে বিদেশে যান। পরে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে বয়স ও অন্যান্য তথ্য নিয়ে সমস্যায় পড়েন।
এ কারণে পাসপোর্টকে ভিত্তি ধরে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের আবেদন বিবেচনা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদও গ্রহণ করা হতে পারে। তবে ওই সনদে পরিবারের সদস্যদের এনআইডি নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে। পরিবারের সদস্যদের এনআইডি না থাকলে শিক্ষা সনদকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, পাসপোর্টের পাশাপাশি ওয়ারিশ সনদ, বিদেশের চাকরির পরিচয়পত্র, রেসিডেন্স কার্ড, বিএমইটি কার্ড, ভিসার কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো নথিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। কেউ যাতে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে এবং আবেদনকারী প্রকৃত প্রবাসী কি না, তা নিশ্চিত করতে পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিল ও ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা হবে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এনআইডি সেবা সহজ করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে কাজের গতি বেড়েছে। সেবাগ্রহীতারা এর সুফল পাচ্ছেন। সামনে আরো পাবেন।’
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম, ইতালির রোম ও মিলান, কুয়েতের কুয়েত সিটি, কাতারের দোহা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি, কানাডার অটোয়া ও টরন্টো, জাপানের টোকিও, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস, মালদ্বীপের মালে, ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে।
এ ছাড়া সুইডেন, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে নতুন করে এ কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।
কালের সমাজ/এসআর

