ভারত কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক পুশইন এবং সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাজী মো. নাহিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাতীয় পার্টি (জাফর)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক পুশইনের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চরম লঙ্ঘন। তিনি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। ভারত যদি আধিপত্যবাদী মনোভাব পরিহার না করে এবং বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তবে জাতিকে আত্মরক্ষার জন্য আরও শক্তিশালী হতে হবে।”
শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু আরও বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদ রুখতে প্রয়োজনে এক বেলা খাব, তবুও পারমাণবিক শক্তি অর্জন করব। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তা অর্জনে জাতিকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের মতো কর্মকাণ্ড দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্ক চায়। কিন্তু সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা এবং জোরপূর্বক পুশইনের মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, বাবুল বিশ্বাস ও মোশাররফ হোসেন; কেন্দ্রীয় নেতা কাজী নজরুল ইসলাম; বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম; মনিরুজ্জামান, শাহানা বেগম এবং ইমরুল হাসান ওয়াসিম।
বক্তারা সীমান্ত হত্যা, পুশইন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সকল দেশপ্রেমিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
কালের সমাজ/কে.পি

