ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মেঘনা পানি শোধনাগার প্রকল্প পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য

খন্দকার মাসুম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) | জুন ৮, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঢাকা মহানগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য নিরাপদ ও টেকসই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মেঘনা নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি আরো বলেন, মেঘনা নদীর পানি শোধন করে ঢাকায় সরবরাহের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

সোমবার (৮ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুর এলাকায় অবস্থিত মেঘনা পানি শোধনাগার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকা ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরের দুই সিটি কর্পোরেশনের বিপুল সংখ্যক নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেঘনা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে তা শোধনের মাধ্যমে সরবরাহের এই বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অতীতে রাজধানীর পানির চাহিদা পূরণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এর ফলে বছরের পর বছর পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মারাত্মক পরিবেশগত ও জনজীবন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখন সারফেস ওয়াটার বা নদীর পানির ব্যবহার বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। মেঘনা নদীর পানি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শোধন করে রাজধানীবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হলে একদিকে যেমন নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখে মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের আওতায় নদীতে পানি গ্রহণ কেন্দ্র (ইনটেক), কাঁচা পানি পরিবহনের পাইপলাইন, দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি শোধন সক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং শোধিত পানি সরবরাহের জন্য বিস্তৃত ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকা মহানগরের বাসিন্দাদের সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এর ফলে রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং ভবিষ্যৎ পানিসংকট মোকাবিলায় এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর একই ধরনের আরও একটি বৃহৎ পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদি পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।ভবিষ্যতে আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ধীরে ধীরে সারফেস ওয়াটারের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। এটি শুধু পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে টেকসই করবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ঢাকা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!