পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং-গজালিয়া সড়কে চালককে ছুরিকাঘাত করে সিএনজি ছিনতাই ঘটনার সাথে জড়িত ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বরগুনা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ঘটনার দুই মাসের মধ্যে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। শুধু তায় নয়, এ সময় উদ্ধার করা হয় ঘটনার সময় ছিনতাইকৃত সিএনজি ও চালকের মোবাইল ফোনও।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার ছোলার ভাঙা হুজুর বাড়ির বাসিন্দা মো. ফারুকের ছেলে আলা উদ্দিন (২৬), ঘটনার মূল হোতা কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দিগর পানখালীর বাসিন্দা মৃত সিরাজ আলমের ছেলে মো. শওকত ওরফে শহীদ (৩৩) ও কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হাজমপাড়ার বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে রমজান আলী (৩০)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সত্যজিৎ বড়ুয়া এ তথ্য জানান।সূত্র জানায়, গত ২০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফাইতং বাজারে যাওয়ার জন্য চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নুরু আলমের সিএনজিটি ভাড়ায় নেন।
সিএনজিটি উপজেলার গজালিয়া-ফাইতং সড়কের বদরটিলা নামক স্থানে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে চালককে জোরপূর্বক গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। পরে অজ্ঞাতনামা আসামিরা চালক নুরু আলমকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেদম মারধর ও ছুরিকাঘাতের পর মৃত্যু নিশ্চিত করে সড়ক থেকে ৫০ফুট নিচে ফেলে দেয়। এ সময় তারা সিএনজি চালকের সাথে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও সিনএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ওই সড়কে চলাচলকারী মোটর সাইকেল আরোহীরা আহত চালক নুরু আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, সেখানে শারিরীক অবস্থার অবননিত হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নুরু আলমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
পরে সুস্থ্য হয়ে এ ঘটনায় থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করেন ভ্ক্তুভোগী সিএনজি চালক নুরু আলম। মামলার প্রেক্ষিতে লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম মাঠে নামেন। এ টিমের কর্মকর্তা সত্যজিৎ বড়ুয়ার বুদ্ধিমত্তায় ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এক এক করে তিন আসামির অবস্থান শনাক্তের পর গ্রেফতার করা হয়। চাঞ্চল্যকর সিনএনজি ছিনতাই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইছার হামিদ বলেন, মামলার কর্তকর্তা সত্যজিৎ বড়ুয়ার বুদ্ধিমত্তায় ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতারসহ ছিনতাইকৃত সিএনজি ও মোবাইল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জিঙ্গাসাবাদ শেষে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে গ্রেফতারকৃতদের। এ ঘটনায় জড়িত অন্য এক আসামীকেও গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।
কালের সমাজ/কে.পি

